রোহিঙ্গাদের রক্ষায় ওআইসি’র হস্তক্ষেপ কামনা রাষ্ট্রপতির | daily-sun.com

রোহিঙ্গাদের রক্ষায় ওআইসি’র হস্তক্ষেপ কামনা রাষ্ট্রপতির

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৮:৪২ টাprinter

রোহিঙ্গাদের রক্ষায় ওআইসি’র হস্তক্ষেপ কামনা রাষ্ট্রপতির

 

মিয়ানমারের জাতিগত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওআইসি’র সদস্য দেশগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের ওপর বারংবার অত্যাচারের ফলে তাদের অস্তিত্ব যেমন হুমকির মুখে পড়ছে এবং তেমনি বাংলাদেশকে বিপুল সংখ্যক অসহায় রোহিঙ্গার বোঝা বহনের মতো মারাত্মক সংকটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।


কাজাখস্তানের রাজধানীতে রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্যালেস অব ইন্ডিপেন্ডেন্স অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)-এর প্রথম ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মেলন’-এ ভাষণ দানকালে রাষ্ট্রপতি একথা বলেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার জন্য আমি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। নাগরিকত্বের অধিকারসহ সব ধরনের অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। এই জনগোষ্ঠী অস্তিত্বের সঙ্কট, নিষ্ঠুরতা এবং উৎখাতের শিকার। হাজারে হাজারে রোহিঙ্গা সীমান্ত পার করে ঢুকে পড়ায় বাংলাদেশ এ সমস্যায় সরাসরি আক্রান্ত। বাংলাদেশ একমাত্র মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিচ্ছে।’


তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের এই সমস্যাকে এমনভাবে সমাধান করতে হবে যাতে রোহিঙ্গারা নিজের ভূমি রাখাইনে নিরাপত্তা এবং মর্যাদার সাথে ফিরে গিয়ে থাকতে পারে। এটা নিশ্চিত করতে আমি ওআইসি সদস্য রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানাই।’


কাজাকস্তানের রাজধানীতে এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মেলনে ওআইসি সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিও মুসলিম বিশ্বকে প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জগতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন।


প্রসঙ্গত, ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা ছাউনিতে ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের’ হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ)’ নামে একটি গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করেছে। রাখাইনে এ হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত কমিশনের প্রধান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। 


এরপর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার গানশিপের ব্যাপক ব্যবহার করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুনসহ নানা নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এতে মিয়ানমার সরকারের হিসাবে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন। ২৭ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোটিয়ার ইয়াং লি শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে ১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা মুসলিম।


এদিকে উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, এই সংখ্যা আরও বেশি। এছাড়াও নাফ নদীর জলসীমানা থেকে শুরু করে স্থল সীমানা পার হয়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নিয়েছে আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা।


এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ফেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে জানান রাখাইনে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মুসলিম রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়ে। এর মধ্যে বিগত ১৫ দিনে বাংলাদেশে ৩ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। 

 


Top