উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করবে ‘রোহিঙ্গা সেল’ | daily-sun.com

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করবে ‘রোহিঙ্গা সেল’

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৭:৪৬ টাprinter

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করবে ‘রোহিঙ্গা সেল’

 

সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর হত্যা, নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘রোহিঙ্গা সেল’ গঠন করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অধীনে এ সেল গঠন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত গত ৫ সেপ্টেম্বরের আদেশটি রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) মো. সামছুর রহমান সেলের প্রধান সমন্বয়ক এবং যুগ্ম সচিব (রাজনৈতিক-২) মো. শফিকুর রহমান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সেলে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে থাকবেন উপসচিব (রাজনৈতিক-১) আবু হেনা মোস্তফা জামান। উপসচিব (রাজনৈতিক-২) মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান প্রথম বিকল্প কর্মকর্তা ও উপসচিব (সীমান্ত-৩) মনির হোসেন চৌধুরী দ্বিতীয় বিকল্প কর্মকর্তা হিসবে সেলে দায়িত্ব পালন করবেন।


সেলের কার্যপরিধিতে বলা হয়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সহিংসতা ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তের ওপার হতে বাংলাদেশে ভূ-খণ্ডে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের কারণে কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলাসহ সন্নিহিত সীমান্তবর্তী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনের সুবিধার্থে রোহিঙ্গা সেল গঠন করা হয়েছে।


এছাড়াও বলা হয়, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, পুশব্যাক সম্পর্কিত তথ্যাদি সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে সেল। সম্প্রতি অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের শুমারি (বায়োমেট্রিকসহ) ও সর্বশেষ অগ্রগতি, সন্নিহিত সীমান্তবর্তী এলাকায় সর্বশেষ পরিস্থিতি, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করবে।


সেলের কার্যপরিধিতে আরও বলা হয়েছে, চিহ্নিত ও নির্ধারিত স্থানের মধ্যে রোহিঙ্গাদের অবস্থান সীমাবদ্ধ রাখা সম্পর্কিত গৃহীত সর্বশেষ ব্যবস্থা এবং রোহিঙ্গাদের আবাসন ও মানবিক সহায়তা দেওয়া সংক্রান্ত কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে সেলকে।


এছাড়া মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কিত অগ্রগতি, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বাংলাদেশ অংশে বিদেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সফর সম্পর্কিত তথ্যাদি এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত তথ্যাদিও রোহিঙ্গা সেল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে।


প্রসঙ্গত, ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা ছাউনিতে ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের’ হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ)’ নামে একটি গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করেছে। রাখাইনে এ হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত কমিশনের প্রধান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। 


এরপর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার গানশিপের ব্যাপক ব্যবহার করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুনসহ নানা নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এতে মিয়ানমার সরকারের হিসাবে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন। ২৭ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোটিয়ার ইয়াং লি শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে ১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা মুসলিম।


এদিকে উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে প্রতিদিন পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, এই সংখ্যা আরও বেশি। এছাড়াও নাফ নদীর জলসীমানা থেকে শুরু করে স্থল সীমানা পার হয়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নিয়েছে আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা।


এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ফেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে জানান রাখাইনে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মুসলিম রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়ে। এর মধ্যে বিগত ১৫ দিনে বাংলাদেশে ৩ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে। এরই প্রেক্ষাপটে ‘রোহিঙ্গা সেল’ গঠন করলো বাংলাদেশ সরকার।

 


Top