নতুন জামা পরে নতুন জীবনে বাড়ি ফিরছে তৌফা-তহুরা | daily-sun.com

নতুন জামা পরে নতুন জীবনে বাড়ি ফিরছে তৌফা-তহুরা

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৭:০১ টাprinter

নতুন জামা পরে নতুন জীবনে বাড়ি ফিরছে তৌফা-তহুরা

 

চিকিৎসকদের দেওয়া নতুন জামা, চুড়ি, জুতা পরে নতুন এক জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরছে তৌফা-তহুরা। তাদের সঙ্গে মা সাহিদা বেগমও পরেছেন চিকিৎসকদের দেওয়া নতুন শাড়ি আর বাবা রাজু মিয়া পরেছেন নতুন লুঙ্গি-শার্ট। এভাবেই আজ রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কোমরের কাছে জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেওয়া তৌফা ও তহুরাকে বিদায় জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এসময় তহুরাকে কোলে নিয়ে আদরও করেন তিনি।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকেরা তৌফা ও তহুরাকে নতুন জীবন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ও দেশবাসীর পক্ষ থেকে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক দলকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। বাবা-মায়ের কোলে করে বাড়ি ফিরছে তারা, বাবা-মায়ের কাছে এর চেয়ে বড় আনন্দের আর কিছু নেই। চিকিৎসকদের এই দল যেভাবে কাজ করেছেন, তিনি তা অন্যদের অনুসরণ করতে বলেন। তৌফা-তহুরার প্রতি সবাই যাতে সহযোগিতার হাত বাড়ান, সেই আহ্বান জানান তিনি। বলেন, এদের সাহায্য করলে ভবিষ্যতে হয়তো তারা নিজেরাই চিকিৎসক হবে।


শিশুদের মা সাহিদা বেগম জানান, গত রাতে তৌফা-তহুরার চিকিৎসার তত্ত্বাধায়ক অধ্যাপক শাহনূর ইসলাম তাদের সবাইকে এই পোশাক দিয়ে গেছেন। নতুন জামা পরে বেশ হাসি-খুশি তৌফা-তহুরা। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সরাসরি তারা গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে যাবেন বলে জানান সাহিদা বেগম।


তোফা ও তহুরার বাবা রাজু মিয়া গাইবান্ধায় কৃষিকাজ করেন। আজকের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য ঢাকায় চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি। তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন। 


হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগ থেকে বাবা রাজু মিয়া ও মা সাহিদা বেগমের নামে একটি যৌথ হিসাব খুলে দেওয়া হয়েছে—ডাচ-বাংলা ব্যাংক, হিসাব নম্বর ১৩৯১৫১৭৩৭৪০, ইমামগঞ্জ শাখা।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্যসচিব, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসিরউদ্দিনসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক ও নার্সরা।


গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের ঝিনিয়া গ্রামের রাজু মিয়ার স্ত্রী সাহিদা বেগম নিজ বাড়িতে শরীর জোড়া লাগানো অবস্থায় তৌফা-তহুরার জন্ম দেন। জন্ম থেকেই তাদের প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা একটি ছিল। গত বছরের অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রথমবার ঢামেক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে তাদের পায়ুপথের রাস্তা পৃথক করা হয়। এরপর গত ১৬ জুলাই ‘পাইগোপেগাস’ শিশু তৌফা-তহুরাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ১ আগস্ট চিকিৎসকদের ২০ থেকে ২২ জনের একটি দল দীর্ঘ নয় ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে জোড়া লাগা তৌফা ও তহুরাকে আলাদা করেন।


সাহিদা বেগম ও রাজু মিয়া দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

 


Top