এবারে প্রযোজক ও পরিচালকের ভুমিকায় সৌরভ-মধুমিতা | daily-sun.com

এবারে প্রযোজক ও পরিচালকের ভুমিকায় সৌরভ-মধুমিতা

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৫:২৫ টাprinter

এবারে প্রযোজক ও পরিচালকের ভুমিকায় সৌরভ-মধুমিতা

টেলিভিশনের তারকা দম্পতি সৌরভ ও মধুমিতা চক্রবর্তী শুধুমাত্র অভিনয়ে আবদ্ধ নেই বেশ অনেকদিন হল। জন্ম নিয়েছে তাঁদের নিজস্ব প্রোডাকশন কোম্পানি। ঠিক কী কী কাজ করছেন তাঁরা, জানালেন সৌরভ চক্রবর্তী একান্ত সাক্ষাৎকারে— 

 

মেমবউ তো বেশ অনেকদিন হল শেষ হয়েছে, এপার ওপার-ও মুক্তি পাবে কয়েক মাসের মধ্যে, তুমি কি এবার টেলিভিশন ছেড়ে ফিল্মে মন দিতে চাইছ? 

সৌরভ: না, ওরকম কোনও ব্যাপার নয় যে এটা ছেড়ে দিলাম, ওটা ধরলাম। আসলে ছবি বানানোর ইচ্ছেটা তো অনেকদিন ধরেই ছিল। যখন ছুটি পেলাম টেলিভিশন থেকে, তখন অনেকটা সময় পেলাম যেটাকে ইউটিলাইজ করতে পারি। এই মুহূর্তে তো ওয়েব-এর প্রচণ্ড রমরমা এবং এই মিডিয়ামটা আমাদের মানে ইউথদের কথা বলে। তখন মনে হয়েছিল যে আমরা কেন একটা হাউস ফর্ম করি না, যারা এই সমস্ত কাজগুলো করতে পারবে। আমি, মধুমিতা ও ইশিতা, আমরা ভাবলাম যদি একটা প্রোডাকশন হাউস খুলে ইন্টারেস্টিং ওয়েব কন্টেন্ট ডেলিভার করতে পারি, বিজ্ঞাপনের ছবি করতে পারি, সেখান থেকেই ‘ট্রিকস্টার’-এর জন্ম। প্রথমে বিজ্ঞাপনের ছবি, তার পরে এখন আমাদের প্রথম সিরিজ আসতে চলেছে... এবং সেটা একটা বড় কাজ। তবে তার মানে এই নয় যে অভিনয় আর করব না এবং শুধুই পরিচালনাতেই সরে এসেছি। আমি তো মনেপ্রাণে একজন অ্যাক্টর। কিন্তু এমন কোনও বিরোধিতা নেই যে পরিচালনায় গেলে আর অভিনয় করা যাবে না। সে তো ফারহান আখতার বা পরমদাও দুটোই করছে। মূল ব্যাপার হল চর্চাটা চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু সেটা শুধুই ঘরের মধ্যে থেকে গেলে অ্যামেচার প্রজেক্ট হিসেবেই থেকে যায়, প্রফেশনাল রূপটা নেয় না। ওই প্রফেশনাল রূপটা দেওয়ার জন্যেই প্রোডাকশন হাউস ফর্ম করে বিজ্ঞাপন, ডকুমেন্টারি এবং এখন ওয়েব সিরিজ।

 

 

মধুমিতা কি তোমাকে অ্যাসিস্ট করছে?

সৌরভ: ও তো সিরিয়ালে প্রচণ্ড ব্যস্ত, তবে বিজ্ঞাপনগুলো ও অ্যাসিস্ট করে। তাছাড়া কোম্পানির সব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাজগুলো ও করে। এই যে ওয়েব সিরিজটা আমরা বানাচ্ছি এখন, সেটা তো হিউজ একটা প্রজেক্ট। সেখানে ফিজিক্যালি টাইম দেওয়া তো ওর পক্ষে সম্ভব হয় না কিন্তু সেটা বাদে অনেক ব্যাক-অফিস জব থাকে। শ্যুটিং থেকে ফিরে সেগুলো ও সামলায়। প্রচুর দিন জেগে, রাত জেগে আমরা কাজ করি।

 

কিছুদিন আগে তো তুমিও মেগার শ্যুটিং করছিলে আর ট্রিকস্টার-এর কাজ তো তখনও চলছিল, দিনের রুটিনটা শেষমেশ কেমন দাঁড়াত? 

সৌরভ: আমাদের রুটিনটা ওই ২৪ ঘণ্টা কাজ আর কী। আমি যখন মেগাতে কাজ করছিলাম তখন মূলত বিজ্ঞাপন ও ডকুমেন্টারির কাজগুলো চলত। প্রচুর ইয়ং ছেলেমেয়ে রয়েছে যারা আমাদের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েটেড, যারা অডিও-ভিস্যুয়াল মিডিয়ামটা শিখতে চায়, জানতে চায়। কিন্তু গোটা বিষয়টাকে তো সামলাতে হয়। বড় বড় বিজ্ঞাপনগুলো আমি নিজে শ্যুট করি। আমাদের মিটিং রাত একটাতেও হতে পারে আবার রাত তিনটে-তেও হতে পারে।

 

 

মানে সারাদিন শ্যুটিং করে ফিরে, আবারও রাতে দুজনে মিলে কাজে বসা?

সৌরভ: হ্যাঁ, একটু প্ল্যান চক আউট করা... আমাদের প্রথম কাজ ‘প্যারানইয়া’ সিরিজের প্রথম শর্টফিল্মটা যখন বানিয়েছিলাম, তখন মনে আছে প্রথম মিটিংটাই হয়েছিল রাত একটার সময়। যারা এসেছিল মিটিংয়ে তারা বলেছিল, জীবনে প্রথমবার রাত একটার সময় মিটিং করতে এলাম। 

 

তোমার ওয়েব সিরিজের কাজ কতদূর? 

সৌরভ: এখন পোস্ট প্রোডাকশন চলছে। হরর-এর একটা নতুন জঁর তৈরি করার চেষ্টা করছি যেটা খুবই সাট্‌ল, খুবই রিয়্যালিস্টিক। হরর খুব পছন্দের কারণ আমরা তো সবাই ভয় পেতে ভালবাসি। আর ভূতের ছবি দেখে ভয় পাওয়ার একটা অনাবিল আনন্দ রয়েছে। আমরা সেটাকেই জোর দেওয়ার চেষ্টা করছি যাতে ভয়টা থাকে এবং ম্যাটার অফ ফ্যাক্টও। একটু হিন্ট দিতে পারি। একজন কার্টুনিস্ট নতুন একটি বাড়িতে শিফট করেছে তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে, আমাদেরই বয়সি। সে একটি নিউজপেপারে কমিক স্ট্রিপ ডিজাইন করে। সে দেখে যে শিফট করার পর থেকে, তার আঁকা ওই কার্টুনগুলি নিয়েই বাড়ির সমস্যা রয়েছে। সে অনেক জিনিস হ্যালুসিনেট করে যেগুলো খুব ভায়োলেন্ট। খুব ডিস্টার্বড ফিল করে। সে প্রথমে ভাবতে শুরু করে যে এটা হয়তো মানসিক রোগ কিন্তু ওর গার্লফ্রেন্ডের ধারণা, এগুলো পিওর প্যারানর্মাল অ্যাক্টিভিটি। গল্পটা এখান থেকে শুরু হয়। খুবই ইন্টারেস্টিং গল্প এবং খুব ইন্টারেস্টিং ভাবে ডিজাইন করার চেষ্টা করছি। এবার বাকিটা তো দর্শক বলবেন। আমরা খুবই আশাবাদী। আর যে নতুন জঁরটা তৈরি করার চেষ্টা করছি, সেই লিবার্টিটা ওয়েব ছাড়া পসিবল হতো না। 

 

তোমার কি মনে হয় যে ওয়েব-এর জনপ্রিয়তা এই কারণেই বাড়ছে পরিচালক-প্রযোজকদের কাছে যে এখানে এমন কনটেন্ট দেখানো যায় যা টেলিভিশনে বা ফিল্মেও অনেক সময় যায় না?  

সৌরভ: আসলে ওয়েব তো অনেক বেশি বিজ্ঞানসম্মত, বাকিগুলো অবৈজ্ঞানিক সেটা একেবারেই বলছি না কিন্তু ওয়েব অনেক বেশি ফোকাসড এবং অনেক বেশি তথ্য থাকে। তাছাড়া যেহেতু পার্সোনাল গেজেট, তাই কানে হেডফোন লাগিয়ে আমি আমার ফোন মুখের কাছে এনে দেখতে পারি, তাতে কারও কিছু বলার নেই। আর ওয়েব সেন্সরশিপে বিশ্বাস করে না, এখনও পর্যন্ত। তাই কনটেন্টকে যতটা সম্ভব অরগ্যানিক ওয়েতে দেখাতে চাই, দেখাতে পারি। এবং যেহেতু ওয়ান ইজ টু ওয়ান, কানেকশনটা খুব নিবিড় হয়।

 

কিছু খারাপ দিকও তো রয়েছে, তোমার কী মনে হয়, কোন খারাপ দিকটা মানুষকে অ্যাফেক্ট করবে?

সৌরভ: আমার মনে হয়, খারাপের সময় বেশ অনেকটা আমরা ইতিমধ্যে পেরিয়ে এসেছি। একটা সময় অনলাইন ছবি পাওয়া যেত না, একটা সময় ওয়েব থেকে ছবি কেনা যেত না, একটা সময় ওয়েবে পর্ন সাইটগুলির আধিপত্য ছিল। যখন ওয়েবে অন্য ধরনের কনটেন্ট আসতে শুরু করল, তখন পর্নের দাপাদাপিও কিন্তু অনেকটা কমে গেল। অনেক অপশন বাড়ল ওয়েবের ভিউয়ারদের কাছে। তার ফলে ওয়েবের মাত্রাতিরিক্ত কুফলের বিষয়টা অনেকটা প্রশমিত হল। আমরা তো ভাবতেই পারতাম না, পাঁচ-ছ বছর আগে যে ওয়েবে বসে বসে সিরিজ দেখব। আগে পাঁচ-ছ মিনিট দেখে বন্ধ করে দিতেন মানুষ। এখন এটা রুটিন হ্যাবিটে পরিণত হচ্ছে আর সেটা যত বেশি হবে, তত ওয়েব আরও বেটার হবে।

 

অর্থাৎ ইউজার এনগেজমেন্ট বেড়েছে। এটাকে মাথায় রেখে তোমার কি মনে হয় যে বিজ্ঞাপনদাতাদের আরও বেশি ফোকাস করা উচিত ওয়েব সিরিজে?

সৌরভ: হ্যাঁ, ওয়েব কেন গাণিতীক আরও বেশি— আমি জানতে পারি আমার ইউজারের বয়স কী, সে কোথায় থাকে, তার বয়স কত... এত অসংখ্য তথ্য এবং পাই-টু-পাই হিসেব বোধহয় ওয়েব ছাড়া অন্য কোনও মিডিয়ামে দেওয়া সম্ভব হয় না। বাদবাকিটা অ্যাসাম্পশন, স্ট্যাটিস্টিক্স। কিন্তু এখানে অ্যাসাম্পশনের উপর নির্ভর করতে হবে না, পুরো রিপোর্টটাই তুমি পেয়ে যেতে পারো অ্যানালিটিক্স থেকে। এমনকী ইউজারদের ফিনান্সিয়াল ব্যাকগ্রাউন্ডের আন্দাজও বেশ কিছুটা পাওয়া যায়। ফলত বিজ্ঞাপনদাতা এবং ইনভেস্টরদের কাছে বিষয়টা খুব সহজ, অনেকটা সায়েন্টিফিক ওয়েতে তারা এগোতে পারবে। কোনও ধারণার বশবর্তী হয়ে তাদের বসে থাকতে হবে না।  

 

 

এবেলায় দেওয়া সাক্ষাৎকার থেকে 


Top