ইসি স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে, আমরাই সেটা নিশ্চিত করব: প্রধানমন্ত্রী | daily-sun.com

ইসি স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে, আমরাই সেটা নিশ্চিত করব: প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০৯:৪৭ টাprinter

ইসি স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে, আমরাই সেটা নিশ্চিত করব: প্রধানমন্ত্রী

 

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যথাসময়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে। আমরাই সেটা নিশ্চিত করবো। এটা নিয়ে অহেতুক পানি ঘোলা করার চেষ্টা করা, আর সংবিধান লঙ্ঘন করে অন্যকিছু করার কোন সুযোগ নেই। বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সভার সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। খবর: বাসস’র।


নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বিএনপি’র তোলা বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার হাসিই পায়- বিএনপি যখন নির্বাচন নিয়ে কথা বলে। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলে, তখন মনে হয় আয়নায় তাদের নিজেদের মুখটা দেখা উচিত।’


নির্বাচনকে প্রভাবিত করার রাজনীতি বিএনপির হাত ধরেই শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরুই করেছে বিএনপি যখন জিয়া ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অবৈধভাবে অস্ত্র হাতে নিয়ে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে।


তিনি বলেন, জিয়া হ্যাঁ, না ভোটের প্রহসন করে, একাধারে সেনাপ্রধান, চিফ মার্শাল ল’ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এবং নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দিয়েও সেখানে একশ’ ভাগেরও বেশী ভোট পেয়েছিল। মানুষের ভোট দেয়ার কোন অধিকারই তখন ছিল না। কাজেই মানুষকে ভোট দেয়ার এই অধিকারতো নষ্ট করে গেছে জিয়াউর রহমান।


বিএনপি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী রাজনৈতিক দল হচ্ছে বিএনপি। ক্ষমতায় বসে ক্ষমতার উচ্ছিষ্টাংশ দিয়ে যে দলটি করা হয়েছিল এবং এই দলটি ক্ষমতায় থাকতে এদেশের মানুষের ওপর যে অত্যাচার নির্যাতন করেছিল, তা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। আবার বিরোধীদলে থাকতে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যাও তারা করেছে। খুন, হত্যা, লুটপাট, দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং এটাই মনে হয় তাদের চরিত্র।


১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচন পূর্ব পরিকল্পিত ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগেই ঠিক ছিল আওয়ামী লীগকে ৪০টির বেশি সীট দেয়া হবে না, ৩৯টি আসন পেয়েছিল আওয়ামী লীগ।


এরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং বিএনপি’র আমলে ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচন এবং মিরপুরের উপনির্বাচনেও ব্যাপক কারচুপির প্রসঙ্গ তুলে আনেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোট চুরির অপরাধে নির্বাচনের দেড় মাসের মাথায় জনগণ আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে পদত্যাগে বাধ্য করে।


তিনি বলেন, অহেতুক পানি ঘোলা করে কোনো লাভ হবে না। আমরা একদিকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছি, অন্যদিকে মিয়ানমারকে তাদের ফিরিয়ে নিতে চাপও দিচ্ছি। একটি দেশের নাগরিক কেন শরণার্থী হয়ে আরেক দেশে এসে আশ্রয় নেবে?


শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারে একটা ঘটনা ঘটল, উদ্বাস্তু হয়ে আমাদের দেশে অনেকে এল। ১৯৭৮ সাল থেকে এরকম উদ্বাস্তু আসছে। মিয়ানমারে এক একটা ঘটনা ঘটে আর আমাদের এখানে উদ্বাস্তুরা আসে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (রোহিঙ্গারা) আশ্রয়ের আশায় আসছে। নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমরা তাদের আশ্রয় দেয়ার এবং কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি মিয়ানমারকে চাপ দিচ্ছি যাতে তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়।


কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে সেভাবে এগিয়ে যাক। আমরা চাই মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। এটাই ছিল জাতির জনকের স্বপ্ন।

 


Top