রাজহাঁসের সাথে সাঁতার শুরু করলেন পরীমণি | daily-sun.com

রাজহাঁসের সাথে সাঁতার শুরু করলেন পরীমণি

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৫:৪৮ টাprinter

রাজহাঁসের সাথে সাঁতার শুরু করলেন পরীমণি

বাইরে হঠাৎ বৃষ্টি। মনটা নেচে ওঠে। জানালা খুলে বাইরে তাকিয়ে স্বপ্নের রাজ্যে হারিয়ে যান পরীমণি। বৃষ্টিতে নেচে-গেয়ে, বাতাসে দোল খেয়ে বাস্তবে ফিরেই টের পান এসবই আসলে মনের খেলা। প্রাণ চাটনি খেয়ে স্বপ্নের ভুবনে চলে গিয়েছিলেন। এমন আইডিয়া নিয়ে বিজ্ঞাপনচিত্রটি নির্মাণ করেন নাফিজ রেজা। ‘চাটনি খাওয়ার পর একটা মেয়ের মধ্যে যে অন্য রকম অনুভূতি আসে, সেটাই তার কল্পনার মধ্য দিয়ে এই বিজ্ঞাপনচিত্রে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি’, বললেন নির্মাতা।  

 

পরীমণিকে মডেল করার সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না, সেটা স্বীকার করলেন নির্মাতা। বিজ্ঞাপনচিত্রটি আলোচিত হওয়ার পুরো ক্রেডিট ঢাকাই ছবির এই নায়িকাকেই দিলেন। ক্যামেরার সামনে পরীমণি না থাকলে বিজ্ঞাপনচিত্রটি নাকি এমন নাও হতে পারত। নাফিজ বলেন, ‘পরীমণি তাঁর সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে কাজটি করেছেন।

 

’ কী রকম? ‘সিলেটের জৈন্তাপুরে শাপলাভর্তি পুকুর। পানিতে নেমে রাজহাঁসের সঙ্গে সাঁতার কাটতে হবে তাঁকে। ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে পুকুরে পানির গভীরতা ১৬ ফুটেরও বেশি। আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না, এত গভীর পানিতে নেমে সাঁতার কাটা ঠিক হবে কি না। আমাদের সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য তিন-চারজন লোক ছিল। কিন্তু যাঁকে নিয়ে এত ভয় সেই পরীমণির কোনো বিকার নেই। পানিতে নেমে রাজহাঁসের সঙ্গে সাঁতার শুরু করে দিয়েছেন দিব্যি। তখনই বুঝতে পেরেছি পরী ভালো সাঁতারুও বটে। ’

 

সিলেটের ঝোপজঙ্গলেও শুটিং করেছেন। সেখানে প্রচুর জোঁক। পুরো শুটিং ইউনিট জোঁকের ভয়ে তটস্থ। পরীমণির মধ্যে তটস্থ ভাব থাকলে হবে না। ক্যামেরার সামনে তাঁকে অন্তত ফুরফুরে মেজাজে থাকতে হবে। জোঁকের ভয়কেও কোনো পাত্তা দেননি পরীমণি। বিল, পুকুর, ঝরনা ও পাহাড়ে দিব্যি শট দিয়েছেন। ’

 

বিজ্ঞাপনচিত্রটিতে দেখা রাজহাঁসগুলো কী সেখানকারই? নাফিজ জানান, গল্পের খাতিরে ৫০টি সাদা রাজহাঁস চেয়েছেন তিনি। এতগুলো রাজহাঁস, তার ওপর আবার সাদা হতে হবে, কোথায় পাওয়া যায়! ঢাকার কারওয়ান বাজারে চলে যায় একজন ইউনিটকর্মী। সেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা রাজহাঁসগুলোর মধ্য থেকে সাদাগুলো কেনা হয়েছে। শুটিংয়ের আগ পর্যন্ত জোগাড় হয় আটত্রিশটি। সেগুলো নিয়েই সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেন। সিলেটে আটত্রিশটি রাজহাঁস গেলেও ঢাকায় ফেরে পঁচিশটি। ‘শুটিং শেষ করে তেরটি রাজহাঁস আমরা ভূরিভোজ করেছি’, বলেন নাফিজ।

 

বিজ্ঞাপনচিত্রটিতে নৌকায় ভেসে বেড়ানোর দৃশ্যের শুটিং হয় সিলেটের রাতারগুলে। শুটিংয়ের দিন গিয়ে জানা যায়, অনুমতি নিতে হবে বন বিভাগের কাছ থেকে। সেটা জোগাড় করতেই চলে যায় অনেকটা সময়। এরপর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১২টি নৌকা রং করে ফুল দিয়ে সাজিয়ে দৃশ্যটি শেষ করা হয়। সব কিছু ঠিক থাকলে বিজ্ঞাপনচিত্রে বিছানাকান্দির একটা দৃশ্যও দেখা যেত। ‘বিছানাকান্দিতে সেট ফেলা হয়েছিল। ঢাকা থেকে উড়ে গিয়ে হাজির হয়েছেন পরীমণি। সব কিছু প্রস্তুত। হঠাত্ জানা গেল, পরীমণির পোশাক আনতে ভুলে গেছেন কস্টিউম ডিজাইনার। পরীমণির কস্টিউম ডিজাইন করে তিনি এতটাই উত্তেজিত ছিলেন যে কস্টিউম হোটেলে ফেলেই চলে আসেন। এ জন্য শুটিং না করেই ফিরতে হয় আমাদের। ’ সেটা নিয়ে খানিকটা অতৃপ্তি থাকলেও প্রচারের পর ভালো সাড়া পাওয়ায় তা ভুলে গেছেন নির্মাতা। এ জন্য ধন্যবাদ জানান প্রাণের ব্র্যান্ড টিমসহ শুটিংয়ে জড়িত সবাইকে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সাফল্যের কারণ।

 

বিজ্ঞাপনচিত্রটির জিঙ্গেল লিখেছেন নির্মাতা নিজেই। কণ্ঠ দিয়েছেন অদিত। দৃশ্য ধারণে সোহেল রানা। কালার করেছেন রাশেদুজ্জামান সোহাগ। কস্টিউম ডিজাইনে জিমি। শিল্প নির্দেশক জিয়া। ১৫ দিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয় শুটিংয়ের। শুটিং হয় দুই দিন।

 

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ  

 


Top