নৌকাডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮৫ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার | daily-sun.com

নৌকাডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮৫ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৫:১৮ টাprinter

নৌকাডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮৫ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার

 

গত ২৯ আগস্ট রাত থেকে এ পর্যন্ত নৌকাডুবির ঘটনায় ৮৫ জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর পর্যন্ত রোহিঙ্গাবাহী ১১টি নৌকা নাফ নদী ও সাগরে ডুবে যায়। টেকনাফ পুলিশ ও স্থানীয়রা এ তথ্য জানিয়েছেন।


এদিকে বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে রোহিঙ্গাবাহী দুটি নৌকা ডুবে যায়। এ দুর্ঘটনায় ১০ জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন খান জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার টেকনাফের বিভিন্ন উপকূল থেকে মোট ১০ জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূল থেকে অসুস্থ অবস্থায় এক রোহিঙ্গাকে বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। 


মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস অভিযানের মুখে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে প্রতিদিনই শত শত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই পারাপারে নৌকা ডুবে প্রাণহানি ঘটছে। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ৪৬ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন বলে জাতিসংঘের হিসাবে বলা হয়েছে।


প্রসঙ্গত, ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা ছাউনিতে ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের’ হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ)’ নামে একটি গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করেছে। রাখাইনে এ হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত কমিশনের প্রধান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। 


এরপর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হেলিকপ্টার গানশিপের ব্যাপক ব্যবহার করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এতে মিয়ানমার সরকারের হিসাবে ৪ শতাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন। ২৭ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ৪৬ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন বলে জাতিসংঘের হিসাবে বলা হয়েছে।


এর আগে গেল বছরের অক্টোবরে প্রায় একই ধরনের এক হামলায় ৯ পুলিশ নিহত হওয়ার পর এই রাজ্যে ব্যাপক সেনা অভিযান শুরু করে মিয়ানমার। সেনাবাহিনীর ওই অভিযানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ ওঠে। রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ ও তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগও ওঠে।


সেবার মিয়ানমারে সেনা অভিযান শুরুর পর প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থান নেয়। ওই ঘটনায় জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার বরাবরই ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করতে না করতেই আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। আগস্ট মাসের শুরুর দিকে মংড়ু এলাকায় সাত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর আগস্ট মাসের ১২ তারিখে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলে রাখাইনে কয়েকশ সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার। এ দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর ফের বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করেছেন রোহিঙ্গারা। 

 


Top