রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ভুয়া তথ্য প্রচার করা হচ্ছে: সু চি | daily-sun.com

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ভুয়া তথ্য প্রচার করা হচ্ছে: সু চি

ডেইলি সান অনলাইন     ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:৪৬ টাprinter

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ভুয়া তথ্য প্রচার করা হচ্ছে: সু চি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সবার নিরাপত্তা বিধান করা হচ্ছে বলে দাবি করে দেশটির নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে অনেক ভুয়া তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে এবং ‘সন্ত্রাসীরা’ এগুলো ছড়াচ্ছে।

 

গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী এসব বলেন।

 

রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট থেকে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সবশেষ নৃশংস অভিযান শুরুর পর সারা বিশ্বে সমালোচনার ঝড় উঠলেও এই প্রথম এ বিষয়ে মুখ খুললেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা।

 

গতকাল মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এর্দোয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন সু চি। ফোনালাপে এর্দোয়ানকে সু চি বলেন, রোহিঙ্গা জঙ্গিরা ভুল তথ্য প্রকাশ করছে। অত্র অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার লক্ষ্যে তারা এসব করছে।

 

দুই নেতার ফোনালাপের বিষয়ে আজ বুধবার সু চির দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

 

তবে সহিংসতার মুখে লাখো রোহিঙ্গার মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়ে সু চি কোনো মন্তব্য করেননি।

 

সু চির দাবি, রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে প্রচুর অপ-তথ্য ছড়াচ্ছে। এই অপ-তথ্য সন্ত্রাসীদের স্বার্থ রক্ষা করছে।

 

তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রীর টুইটারে পোস্ট করা হত্যাযজ্ঞের ছবির প্রসঙ্গ টেনে সু চি দাবি করেন, ওই ছবি মিয়ানমারের নয়।

 

উল্লেখ্য, তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী মেহমেট সিমসেক টুইটারে কয়েকদিন আগে রক্তাক্ত কিছু ছবি শেয়ার করে মিয়ানমার সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। ছবিগুলো রোহিঙ্গাদের বলে টুইট করা হয়েছিল। কিন্তু আসলে তা সত্য ছিল না।

 

পরে অবশ্য ছবিগুলো সরিয়ে নিয়েছেন তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রী।

 

মিয়ানমার সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রচুর ভুয়া ছবি ছড়াচ্ছে। এতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের স্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে এসব অপ-তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

 

রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে অপ-তথ্য ছড়ানোর জন্য সন্ত্রাসীদের দায়ী করেন সু চি।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, এরদোয়ানকে সু চি বলেছেন, তার সরকার ইতিমধ্যে যথাসাধ্য উপায়ে রাখাইনের সব মানুষকে সুরক্ষা দিতে শুরু করেছে।

 

সু চি বলেছেন, মানবাধিকার-বঞ্চনা ও গণতান্ত্রিক সুরক্ষার অর্থ তারা খুব ভালো করেই জানেন। তাই তারা দেশের সব মানুষের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন। এটা শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও মানবিক অধিকারও বটে।

 

রাখাইনে বেশ কয়েকটি তল্লাশিচৌকিতে হামলার পর গত ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা-নির্যাতন শুরু হয়।

 

নির্বিচারে হত্যা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ায় প্রাণে বাঁচতে মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে ঢুকছে।

 

এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও সংখ্যাটি ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার বলছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সূত্র। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জেনেভায় গতকাল এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে, গত মাস থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ১ লাখ ২৩ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। রাখাইন রাজ্যে সংঘাত বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে জাতিসংঘ।

 

এদিকে, সু চির নোবেল পুরস্কার বাতিলের দাবি জানিয়েছেন অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইউরোপিয়ান মিডিয়া ডাইরেক্টর অ্যান্ড্রু স্ট্র্যোলাইনও আছেন তাদের মধ্যে।

 

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এক সম্পাদকীয়তে লিখেছে, একটি দুষ্ট শাসকের সহানুভূতিহীন প্রতীমা হিসেবে সু চি আবির্ভূত হচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। তসলিমা নাসরিন গার্ডিয়ানের এই বক্তব্য টুইট করেছেন।


Top