রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নয় মিয়ানমার: অং সান সুচি | daily-sun.com

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নয় মিয়ানমার: অং সান সুচি

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৪:৪৬ টাprinter

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী নয় মিয়ানমার: অং সান সুচি

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা ও নিপীড়ন বন্ধে এবং সংকট সমাধনে মালয়েশিয়ার আলোচনা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। দেশটির উপদেষ্টা (পদটি প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য) নোবেল বিজয়ী অং সান সুচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দ্বি-পাক্ষিক যেকোনো বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি কোনো ধরনের আলোচনায় আগ্রহী নন।


শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরে রোহিঙ্গাদের সংহতি সমাবেশে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক এ কথা জানান। তিনি জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিফাহ আমান মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চান। এ সময় সুচি মুখের ওপর বলে দেন- ‘রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলতে চাইলে আপনার সঙ্গে সাক্ষাতে আমি আগ্রহী নই’।


এ সময় মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ওপর ‘জাতিগত নিধন’ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নাজিব রাজাক। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে শিগগিরই রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের এই অত্যাচার বন্ধ করতে হবে।


মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গারা পালিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা ইস্যু মালয়েশিয়ার জন্যও নিরাপত্তা সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে একটি বড় সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে।


মালয়েশিয়ার এই প্রতিবাদের কড়া সমালোচনা করেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ইউ যাউ হোতাই। মিয়ানমার টাইমসকে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বের ওপর মালয়েশিয়ার সম্মান করা উচিত।’


এদিকে, রোহিঙ্গা হত্যার প্রতিবাদে মালয়েশিয়া মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের অনূর্ধ্ব-২২ জাতীয় ফুটবল দলের একটি প্রীতি ম্যাচ বাতিল করেছে।


প্রসঙ্গত, ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনা ছাউনিতে ‘রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের’ হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্যসহ অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (এআরএসএ)’ নামে একটি গ্রুপ হামলার দায় স্বীকার করেছে। রাখাইনে এ হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত কমিশনের প্রধান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। 


এ অঞ্চলের অমুসলিম নাগরিকদের ভাষ্য, এ পর্যন্ত আরাকানে অন্তত ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছে। ১১ হাজার ৭০০ ‘জাতিগত অধিবাসী’ তাদের বাসস্থান ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর নির্যাতনে গত ৮ দিনে বাংলাদেশে প্রায় ৬০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে । এসব শরণার্থীর মধ্যে প্রায় সবাই রোহিঙ্গা মুসলিম। তাদের সহযোগিতায় বিভিন্ন সাহায্য সংস্থাকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানায় সংস্থাটি। 


এর আগে গেল বছরের অক্টোবরে প্রায় একই ধরনের এক হামলায় ৯ পুলিশ নিহত হওয়ার পর এই রাজ্যে ব্যাপক সেনা অভিযান শুরু করে মিয়ানমার। সেনাবাহিনীর ওই অভিযানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের অভিযোগ ওঠে। রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ ও তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগও ওঠে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার বরাবরই ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


সেবার মিয়ানমারে সেনা অভিযান শুরুর পর প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে অবস্থান নেয়। ওই ঘটনায় জাতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে।


এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করতে না করতেই আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। চলতি মাসের শুরুর দিকে মংড়ু এলাকায় সাত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর আগস্ট মাসের ১২ তারিখে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা বলে রাখাইনে কয়েকশ সেনা মোতায়েন করে মিয়ানমার সরকার। এ দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর ফের বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করেছেন রোহিঙ্গারা। 

 


Top