চলন্ত বাসে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার রুপার বোনকে চাকরি দেবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী | daily-sun.com

চলন্ত বাসে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার রুপার বোনকে চাকরি দেবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৫:০৯ টাprinter

চলন্ত বাসে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার রুপার বোনকে চাকরি দেবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার জাকিয়া সুলতানা রুপা’র ছোট বোন মাশরুফা আক্তার পপিকে সরকারি ওষুধ কোম্পানি অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগসে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।  
  
 

শুক্রবার বিকালে নিহতের বাড়ি গিয়ে তার মা, ভাই ও বোনসহ পরিবারের সদস্যদের তিনি সান্ত্বনা দেন।   
  পাশাপাশি রুপা’র ছোট বোনকে চাকরি দেয়ার আশ্বাসে তার কাছ থেকে বায়োডাটা গ্রহন করেন এবং নগদ ১ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

 
  
এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী আমজাদ হোসেন মিলন নগদ ৫০ হাজার, জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় থেকে নগদ ২৫ হাজার এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল হক নগদ ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন। 

 
  
এর আগেও সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ নিহতের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন।  
 রুপা’র বাড়ির চারিদিকে বন্যার পানি থাকার কারণে তৎসংলগ্ন একটি বাড়িতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিহতের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং পাশের একটি ফাঁকা স্থানে পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত শোক ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন।  

   
  
জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থী রুপাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় যারা জড়িত পুলিশ ইতোমধ্যেই তাদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে এবং তারা নিজেদের দোষ স্বীকার আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।

  
  
আসামিরা যাতে দ্রুত শাস্তি পায়, সে বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সভামঞ্চ থেকে আইনমন্ত্রীর সংঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আইনমন্ত্রীও সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস প্রদান করেন।  
  
 

মন্ত্রী আরও বলেন, এর আগে শাহজাদপুরে সাংবাদিক খুনের ঘটনায় তার স্ত্রীকে চাকরি দেয়া হয়েছে, রুপা’র বোনকেও চাকরি দেয়া হবে। আপনারা মনে রাখবেন, বর্তমান সরকার সব বিপদ-আপদে মানুষের পাশে আছে এবং আগামীতেও থাকবে। 


    
প্রসঙ্গত, ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে করে গত ২৫ আগস্ট রাতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে বাসের চালক,  সুপারভাইজার ও ৩ হেলপার মিলে রূপাকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের রাস্তার পাশে লাশ ফেলে যায়।  
  
টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পাশে মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল এলাকায় ওই তরুণীর লাশ পাওয়ার পর হত্যার আলামত থাকায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে মধুপুর থানা পুলিশ।  
কিন্তু পরিচয় জানতে না পারায় ময়নাতদন্ত শেষে পরের দিন টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে দাফন করা হয়। গণমাধ্যমে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে মধুপুর থানায় গিয়ে ছবি দেখে রূপাকে শনাক্ত করে তার পরিবার।

  
  
পরে রূপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান ছোঁয়া পরিবহনের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। বর্তমানে তারা টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে রয়েছে।  
  এ অবস্থায় প্রশাসনের নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুনরায় রুপা’র লাশ উত্তোলনের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে রাতে পাবিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।  


   
৩ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে ৪র্থ রূপা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের আসানবাড়ি গ্রামের মৃত জেলহক প্রমানিকের মেয়ে।  ঢাকার আইডিয়াল ল’ কলেজে পড়ালেখা করার পাশাপাশি ময়মনসিংহ জেলা সদরে একটি কোম্পানির প্রোমশনাল ডিভিশনে কাজ করছিলেন তিনি।  
  
 

বগুড়ায় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নেয়ার পর ময়মনসিংহে ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন ওই তরুণী।  
 


Top