যৌনতা নয়, উষ্ণতা বিক্রি করেন এই নারী! | daily-sun.com

যৌনতা নয়, উষ্ণতা বিক্রি করেন এই নারী!

ডেইলি সান অনলাইন     ২৩ আগস্ট, ২০১৭ ১৫:৫৩ টাprinter

যৌনতা নয়, উষ্ণতা বিক্রি করেন এই নারী!

প্রতিকী ছবি

শিরোনাম দেখেই আপনি হয়তো ভাবছেন ভুয়া খবর। কিন্তু আপনার বিশ্বাস না হলেও বাস্তবেই অভিনব এই পেশাকে বেছে নিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামান্থা হেস।

 

প্রচলিত দেহ ব্যবসার বাইরে সামাজিকভাবে অনেকটাই গ্রহণযোগ্য এই নতুন ব্যবসা খুলে বসেছেন তিনি। এমনকি ৩০ বছর বয়সী ওই নারী শরীরের উষ্ণতা বেচে বেশ মোটা অংকের টাকাও আয় করে চলেছেন। এ জন্য গ্রাহকদের নিজের শরীর জড়িয়ে ধরে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকার সুযোগ দেন তিনি। শুধুই জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকা, এর বেশি কিছু নয়। আর এক ঘণ্টা এভাবে শুয়ে থাকার বিনিময়ে গ্রাহককে গুণতে হয় ৬০ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় ৪ হাজার ৬০০ টাকার মতো।

 

অভিনব এই পেশাটি জনপ্রিয়তা লাভ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওরিগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড এলাকায়। একটি স্থানীয় পত্রিকায় এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর দেশটির ৪০টি টেলিভিশন চ্যানেল বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রচার করে যা ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ দেখে। এর ফলে তুঙ্গে ওঠে হেসের ব্যবসা।

 

এ পেশা প্রসঙ্গে হেস জানান, ২০১২ সালে তিনি এক নারীকে দেখতে পান যিনি মানুষকে আলিঙ্গন করার বিনিময়ে দুই ডলার করে নিচ্ছেন। হেস জানান, তিনি এ ধরনের একটি পদ্ধতি খুঁজছিলেন যেখানে মানুষের শরীরের ছোঁয়া পাওয়া যাবে। তবে তা হবে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য। সে কারণে ওই নারীর কাছ থেকে এই ধারণাটা নেন।

 

নিজের উপার্জন সম্পর্কে হেসের বক্তব্য, আগের চাকরির চেয়ে অনেক বেশি আয় হয় এই পেশায়। তিনি বলেন, ‘এই কাজটি করে খুব সহজেই জীবনযাপন করা সম্ভব। এজন্য এক দিনে আমাকে পাঁচটির বেশি সেশন দেয়ার প্রয়োজন হয় না।’সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে তার উপার্জন ৭ হাজার ২০০ ডলারের বেশি।

 

হেস জানান, তার আলিঙ্গন প্রার্থী গ্রাহকদের ৯০ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৭৫ এর মধ্যে যাদের অনেকেই শারীরিক সমস্যার কারণে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না। হেস দাবি করেন এসব মানুষকে জড়িয়ে ধরার সুযোগ দিয়ে তিনি মূলত তাদের মনে এক ধরনের বার্তা পাঠান যার মাধ্যমে তাদের মস্তিষ্কে সুখানুভূতি তৈরি হয়।

 

অদ্ভূত ধরনের এই পেশার সফলতা প্রসঙ্গে হেস বলেন, ‘আমি কোনো বাছবিচার ছাড়াই মানুষকে গ্রহণ করি।’ এছাড়াও তার সফলতার আরো একটি কারণ হলো যে কোন জায়গাতেই গ্রাহককে সেবা দিতে যাওয়া। তাছাড়া শারীরিকভাবে অসুস্থ গ্রাহকদেরকেও তিনি নানান কায়দায় শরীরে উষ্ণতা দেন বলে জানান।

 

কখনই গ্রাহকদের শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো কিংবা রোমান্টিক হয়ে ওঠার সুযোগ দেন না বলে দাবি করেন হেস। তিনি বলেন, এ সম্পর্কে প্রথমেই গ্রাহককে জানিয়ে দেয়া হয়। তারপরেও কোনো গ্রাহকের মধ্যে এ ধরনের ভাব লক্ষ্য করলে তাকে সরাসরি সতর্ক করে দেন তিনি।

 

তবে এ পেশার বাইরেও তার একটি নিজস্ব সামাজিক জীবন রয়েছে। সেখানে তার একজন মনের মানুষও রয়েছে। সেই মানুষ কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই হেসের এই অভিনব পেশাকে মেনে নিয়েছে।


Top