মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ১৫ আসামির ১৪ জনই র‍্যাব কর্মকর্তা | daily-sun.com

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ১৫ আসামির ১৪ জনই র‍্যাব কর্মকর্তা

ডেইলি সান অনলাইন     ২২ আগস্ট, ২০১৭ ২১:০০ টাprinter

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ১৫ আসামির ১৪ জনই র‍্যাব কর্মকর্তা

 

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার ডেথ রেফারেন্স এবং আপিলের রায়ে র‍্যাব-১১ এর সাবেক ১৬ কর্মকর্তা ও সদস্যের ১৪ জনেরই মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের যুগ্ম-বেঞ্চ এই রায় দেন।

 

 

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা র‍্যাব কর্মকর্তা ও সদস্যরা হলেন- র‍্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক চাকরিচ্যুত লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, র‍্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার চাকরিচ্যুত মেজর আরিফ হোসেন, র‍্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার চাকরিচ্যুত লে. কমান্ডার মাসুদ রানা, হাবিলদার এমদাদুল হক, আরওজি-১আরিফ হোসেন, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, ল্যান্স নায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহি আবু তৈয়ব, কনস্টেবল মো. শিহাব উদ্দিন, এসআই পুর্নেন্দু বালা, সৈনিক আব্দুল আলীম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক তাজুল ইসলাম, সৈনিক আল আমিন।

 

 

ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২৬ জনের মধ্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ১৫ জনের সাজা বহাল রাখা হয়।মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমে ১১ জনকে যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে। তারা হলেন- সৈনিক আসাদুজ্জামান নুর, সার্জেন্ট এনামুল কবীর, নুর হোসেনের সহযোগী মুর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, মিজানুর রহমান দিপু ওরফে মিজান, মো. রহম আলী, মো. আবুল বাসার, সেলিম, মো. সানাউল্লাহ ওরফে সানা, ম্যানেজার শাহজাহান ও জামাল উদ্দিন।

 

 

একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নয়জনের সাজা বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এরা হলেন- র‍্যাব-১১-এর সাবেক সদস্য এএসআই আবুল কালাম আজাদ (অপহরণের দায়ে ১০ বছর), এএসআই বজলুর রহমান (সাক্ষ্য-প্রমাণ সরানোর দায়ে ৭ বছর), এএসআই কামাল হোসেন (পলাতক) (অপহরণের দায়ে ১০ বছর), করপোরাল মোখলেছুর রহমান (পলাতক) (অপহরণের দায়ে ১০ বছর), করপোরাল রুহুল আমিন (অপহরণের দায়ে ১০ বছর), হাবিলদার নাসির উদ্দিন (সাক্ষ্য-প্রমাণ সরানোর দায়ে ৭ বছর), কনস্টেবল বাবুল হাসান (অপহরণের দায়ে ১০ বছর), কনস্টেবল হাবিবুর রহমান (পলাতক) (অপহরণের দায়ে ১০ বছর, সাক্ষ্য-প্রমাণ সরানোর দায়ে ৭ বছর) ও সৈনিক নুরুজ্জামান (অপহরণের দায়ে ১০ বছর)।

 

 

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকার, নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়িচালক মো. ইব্রাহীম।

 

 

ঘটনার তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদীতে একে একে ভেসে ওঠে ছয়টি লাশ। পরদিন মেলে আরেকটি লাশ। ঘটনার এক দিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা (পরে বহিষ্কৃত) নূর হোসেনসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।

 

 

আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় একই থানায় আরেকটি মামলা করেন নিহত চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। পরে দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে পুলিশ। ১১ মাস তদন্তের পর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল র‍্যাবের সাবেক ২৫ কর্মকর্তা ও সদস্যসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

 

 

নিম্ন আদালতের রায়ে ৩৫ আসামির মধ্যে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি নয়জন বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন।

 


Top