ইতিহাস পাল্টে দেয়া কিছু পরকীয়ার গল্প | daily-sun.com

ইতিহাস পাল্টে দেয়া কিছু পরকীয়ার গল্প

ডেইলি সান অনলাইন     ২০ আগস্ট, ২০১৭ ২২:১০ টাprinter

ইতিহাস পাল্টে দেয়া কিছু পরকীয়ার গল্প

পরকীয়া নিঃসন্দেহে একটি গর্হিত কাজ। এটি সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী একটি রোগও বটে। তবে কিছু কিছু পরকীয়ার গল্প আছে যা পাল্টে দিয়েছিল ইতিহাসকেই।

 

চলুন জেনে নিই তেমন কিছু সম্পর্কের কথা-

 

মেরী গডউইন ও পার্সি বেসসি শেলি: এ দুজনের যখন প্রথম দেখা হয় তখন মেরীর বয়স ১৬ আর শেলির ২১।  মেরী অবিবাহিত থাকলেও ততদিনে রীতিমত বিবাহিত ছিলেন শেলি।  তবুও সব বাঁধা অতিক্রম করে একে অন্যের কাছে আসেন তারা।  ভালোবেসে ফেলেন।  অবশ্য পরবর্তীতে স্ত্রীর গর্ভে সন্তান আসলে কিছুই করার থাকেনা শেলির।  অসহায় হয়ে পড়েন এই কবি।  ১৮১৪ সালে এই দুই লেখকের মিলন পুরো সাহিত্যজগতকেই একেবারে পাল্টে দেয় (ওজি)।  নতুন করে রচনা করে সাহিত্যের ইতিহাস।  কিছুদিন পরেই শেলির প্রথম স্ত্রী মারা যান আর পুনরায় মিলিত হন মেরী ও শেলি।  অবশ্য এর কিছু বছর পরেই মারা যান শেলিও।  তবে তাদের দুজনের লেখনী আজও অব্দি অমর করে রেখেছে তাদেরকে ইতিহাসের পাতায়।

 

ক্যাথরিন দি গ্রেট ও গ্রেগরী পটেমকিন: ক্যাথরিন দি গ্রেট তখন নিজের বয়স্ক স্বামীর ওপরে বেশ ক্ষিপ্ত।  এসময় তাকে নিজের ক্ষমতা পেতে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে ১০ বছরের ছোট পটেমকিন।  প্রচন্ডভাবে সাহায্য করেন তিনি ক্যাথরিনকে।  বুদ্ধি দিয়ে, শক্তি দিয়ে-সবভাবে সাহায্য করতে থাকেন তিনি।  আর এই সাহায্য দেওয়া-নেওয়ার এক পর্যায়ে ভালোবেসে ফেলেন তারা একে অন্যকে।  পরবর্তীতে ক্যাথরিনের স্বামী মারা গেলে একে অন্যের ভালোবাসাকে প্রকাশ করেন তারা।  প্রচন্ড শক্তিশালী এক ক্ষমতাবলয় তৈরি করেন এই দুজন নিজেদের চারপাশে।  রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিহাসকে অনেকটাই নিজেদের বশে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা।  পরবর্তীতে ক্যাথরিনের পৃথিবীর অন্যতম ক্ষমতাধর নারী হয়ে ওঠার পেছনে পটেমকিনের সঙ্গকেই বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ইতিহাসবিদেরা।

 

চার্লস ডিকেন্স ও নেলি টার্নান: মাঝবয়সী পুরুষদের ভেতরে খানিকটা হলেও অন্য নারীর প্রতি আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়।  আর এটি নতুন কোনো বিষয় নয়।  তবে এর চেয়ে বেশি কিছু হলে পুরো ঘটনাটা নিয়ে নেয় অন্য মোড়।  আর প্রায়ই ঘটে থাকা এই ব্যাপারটি থেকে বেরোতে পারেননি বিখ্যাত লেখক চার্লস ডিকেন্সও।  নয় সন্তানের বাবা ডিকেন্স ৪৫ বছর বয়সে ভালোবাসেন ১৮ বছর বয়সী নেলিকে।  আর সেই ভালোবাসার জন্যে ছেড়ে দেন স্ত্রীকেও।  পরবর্তীতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নেলির সাথেই ভালোবাসার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেন এই লেখক।  বলা হয় ডিকেন্সের অনেক লেখাতেই নেলিকে খুঁজে পাওয়া যায়।  তার অবদান ডিকেন্সের লেখায় অসামান্য।

 

ক্লিওপেট্রা ও মার্ক অ্যান্টনি: ক্লিওপেট্রা ও মার্ক অ্যান্টনি দু’জনাই নিজেদের জায়গা থেকে ছিলেন প্রতাপশালী। পরবর্তীতে তারা প্রণয় থেকে শুরু করে বিশ্বকে নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসে জায়গা করে নেন মানুষের মনে।  শুধু ইতিহাসের পাতা নয়, নিজেদের ভালোবাসার জেরে মৃত্যুকে বুকে টেনে নিয়ে অমরও হয়ে গিয়েছেন।


Top