নৈতিকতার প্রশ্নে কোন আপোষ নয়: ইসিকে সাংবাদিকরা | daily-sun.com

নৈতিকতার প্রশ্নে কোন আপোষ নয়: ইসিকে সাংবাদিকরা

ডেইলি সান অনলাইন     ১৬ আগস্ট, ২০১৭ ২০:৪১ টাprinter

নৈতিকতার প্রশ্নে কোন আপোষ নয়: ইসিকে সাংবাদিকরা

সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নৈতিকতার প্রশ্নে আপোষহীন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা। আগারগাঁয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংলাপে কমিশনকে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা এ পরামর্শ দেন।  

 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন বিশেষজ্ঞসহ অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে দু’দিনব্যাপী সংলাপের আজ প্রথম দিনে ২৬ জন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব অংশ নেন।  

 

বেলা সোয়া ১০টা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে, এম, নুরুল হুদার নেতৃত্বে কমিশন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সংলাপে বসেন।  

 

ধারাবাহিক এই সংলাপের মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পথ প্রশস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রশ্নে ইসিকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে এবং নৈকিতার প্রশ্নে অবিচল থাকার পরামর্শ দিয়েছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা।  

 

তিনি বলেন, গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের প্রত্যাশা সবার অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে তারা বিদ্যমান নির্বাচনী আইনের সঠিক প্রয়োগ, দেশ-বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সকলের বোধগম্য করতে বাংলায় অনুবাদ ও প্রকাশ, আচরণবিধি প্রয়োগে কঠোর হওয়া, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ প্রদান, অবৈধ অর্থ ও পেশী শক্তির ব্যবহার রোধ, প্রার্থীদের হলফনামা ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন।  

 

তিনি বলেন, নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই বলেছেন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন হলে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। ‘না’ ভোটের বিধান রাখার পক্ষে অনেকই মতামত দিয়েছে। নির্বাচনে ‘না’ ভোট থাকলে রাজনৈতিক দলগুলো ভাল প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে যত্নবান হবেন।

 

সচিব জানান, জনসংখ্যার ভিত্তিতে সীমানা পুননির্ধারণ করা, নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ, নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন, সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, নারী ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে উদ্যোগী হওয়া এবং নারীর ক্ষমতায়নে রাজনৈতিক দলগুলো যাতে ৩০ শতাংশ নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয় তা নিশ্চিত করার পরামর্শ গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের কাছ থেকে এসেছে।  

 

তিনি বলেন, আগামীকাল সংবাদ সংস্থা, অনলাইন, টিভি ও রডিও’র ৩৭জন প্রতিনিধির সঙ্গে কমিশন বসবে। পর্যায়ক্রমে সবার সঙ্গে বসে সব সুপারিশ নিয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি সেনা মোতায়েন সমর্থন করি না। সেই সঙ্গে নাম সর্বস্ব পর্যবেক্ষক সংস্থাকে যাতে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ না দেয়া হয় এ ব্যাপারে কমিশনকে বলেছি। ’

 

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘নির্বাচন একটি রাজনৈতিক উৎসব। নির্বাচনে সার্বিকভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই বলে অনেকে মত দিয়েছে। অনেকে বলেছেন এখন যেভাবে মোতায়েন করা হয় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তারা থাকতে পারে।  

 

বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, ‘বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আমরা মতামত দিয়েছি। ’

 

ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, নিরপেক্ষতা বজায় রেখে ইসির স্বাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। জনগণের আস্থা অর্জনে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে।

 

সিনিয়র সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর বলেন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনার পর সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত বলেন, বিদ্যমান সীমানাতেই নির্বাচন করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জনসংখ্যার ভিত্তিতেই সীমানা পুননির্ধারণ করতে হবে। নতুন করে সীমানা নির্ধারণ করতে গেলে সময়ক্ষেপন ও আইনী জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তবে নতুন প্রশাসনিক এলাকা ও বিলুপ্ত ছিটমহল যোগ করেই সংসদীয় আসনের গেজেট করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।  

 

প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী কোন দল যাতে নিবন্ধন না পায় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জামায়াত যাতে অন্য কোন নামে বা অন্য কোন ফরম্যাটে ভোট করতে না পারে সে বিষয়ে আইনী উদ্যোগ নিতে হবে।  

 

সংলাপে জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি মো. শফিকুর রহমান, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, যুগান্তর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, বিএফইউজে সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল, ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, সিনিয়র সাংবাদিক আমানুল্লাহ কবীর, মাহফুজউল্লাহ, কাজী সিরাজ, বিএফইউজে মহাসচিব ওমর ফারুক, সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সাংবাদিক সামশুল হক, বিএফইউজে (একাংশ) মহাসচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, প্রথম আলো উপ-সম্পাদক আনিসুল হক, সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মর্তুজা, কলাম লেখক বিভুরঞ্জন সরকার, সাংবাদিক মাহবুব কামাল, সোহরাব হাসান ও কাজী রোকনুদ্দীন আহমদ।


Top