স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছে, সবার সঙ্গে কথাও বলছে মুক্তামনি | daily-sun.com

স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছে, সবার সঙ্গে কথাও বলছে মুক্তামনি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ আগস্ট, ২০১৭ ১২:৩৫ টাprinter

স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছে, সবার সঙ্গে কথাও বলছে মুক্তামনি

 

বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার মুক্তামনি সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, মুক্তামনি স্বাভাবিক খাবার খেতে পারছে। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। তারপরও সার্বক্ষণিক তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রবিবার (১৩ আগস্ট) সকালে মুক্তামনিকে দেখে আইসিইউ থেকে বেরিয়ে তিনি গণমাধ্যমকে একথা জানান।


শনিবার সকালে অস্ত্রোপচারের পর মুক্তামনিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। এরপর কেটে গেছে প্রায় ২৪ ঘণ্টা। সবদিক বিবেচনা করে মুক্তামনি সুস্থ রয়েছে বলে জানান ডা. সামন্ত লাল সেন। 


অস্ত্রোপচারের পর রক্তক্ষরণের যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, সে রকম কিছু ঘটেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সামন্ত লাল বলেন, এখন পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি। তাকে এখনও পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না। তবে এখন পর্যন্ত যা ঘটেছে, তাতে আমরা বলতে পারি মোটামুটি শঙ্কামুক্ত মুক্তামনি।


মুক্তামনির বাবা ইব্রাহীম হোসেন জানান, মুক্তামনির অবস্থা ভাল। খাওয়া-দাওয়া করছে, সবার সঙ্গে কথাও বলছে।


উল্লেখ্য, সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেনের মেয়ে মুক্তামনি (১২)। জন্মের দেড় বছর পর মুক্তামনির হাতে একটি ছোট মার্বেলের মতো গোটা দেখা দেয়। এরপর থেকে সেটি বাড়তে থাকে।


দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়েও তার কোনো চিকিৎসা হয়নি। তার আক্রান্ত ডান হাত এখন ছোট আকারের গাছের গুড়ির রূপ নিয়ে প্রচণ্ড ভারী হয়ে উঠেছে। এতে পচনও ধরেছে। দিন রাত চুলকানি ও যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে থাকে মুক্তামনি। আক্রান্ত স্থান থেকে বিকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।


এ রোগ তার দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। এসব কারণে তাদের বাড়িতে আত্মীয় স্বজন ও পড়শিদের যাতায়াতও এক রকম বন্ধ হয়ে গেছে।
 

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত ৯ জুলাই একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘লুকিয়ে রাখতে হয় মুক্তাকে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর মুক্তার চিকিৎসা দেয়ার দায়িত্ব নেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তার যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন।


গত ১২ জুলাই ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হয় মুক্তামনি। বর্তমানে সে ৬০৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। পরীক্ষা করে রোগটি লিমফেটিক ম্যালফরমেশন বলে শনাক্ত করেন চিকিৎসকরা। এ রোগে তার এক হাত ফুলে গিয়ে দেহের চেয়েও ভারী হয়ে গেছে। চার বছর ধরে এই ‘বোঝা’ বয়ে বেড়াচ্ছে ১১ বছরের ছোট্ট শিশুটি। আগামীকাল শনিবার (১২ আগস্ট) তার হাতে অপারেশন করা হবে।


এরইমধ্যে মুক্তার চিকিৎসার জন্য একটি বোর্ড গঠনসহ সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ। 


এর আগে গত ৫ আগস্ট হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের তিনতলার অপারেশন থিয়েটারে মুক্তার বায়োপসি করা হয়। গত ৮ আগস্ট বায়োপসি রিপোর্টে তার রক্তনালীতে টিউমারের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানান ঢামেকের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।


সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা আরও জানান, মুক্তার হাতের একাধিক অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে। তার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা দরকার। একপর্যায়ে তার বাম হাত কেটে ফেলতে হতে পারে।


সংবাদ সম্মেলনের আগে অবশ্য তার চিকিৎসা নিয়ে বাবা-মার সঙ্গে কথা বলেন চিকিৎসকরা। হাত কাটার আশঙ্কার কথা জানান। উত্তরে মুক্তার বাবা ইব্রাহীম হোসেন ও মা আসমা খাতুন বলেন, আপনারা মুক্তার জীবন রক্ষায় যা যা প্রয়োজন করুন।


সংবাদ সম্মেলনের পর ইব্রাহীম হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, মুক্তার চিকিৎসা নিয়ে আমরা খুব সন্তুষ্ট। এখানে অনেক বেশি যত্ন নেয়া হচ্ছে যা আগে কোথাও নেয়া হয়নি। ডাক্তারদের উপর আমার ভরসা আছে। জীবন রক্ষার জন্য তারা যা করতে চান এতে আমার কোনো আপত্তি নাই। আমরা শুধু আমাদের মেয়েকে চাই।
 

গত ১১ জুলাই মুক্তামনিকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে ৬০৮ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের অপারেশন থিয়েটারে শনিবার (৫ আগস্ট) তার বায়োপসি সম্পন্ন হয়। বায়োপসি রিপোর্টে তার রক্তনালীতে টিউমার ধরা পড়ে। যা অপসারণে মূল অপারেশন চলছে।

 


Top