মানবতাবিরোধী অপরাধ: আজহার-কায়সারের আপিল শুনানি ১০ অক্টোবর | daily-sun.com

মানবতাবিরোধী অপরাধ: আজহার-কায়সারের আপিল শুনানি ১০ অক্টোবর

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ আগস্ট, ২০১৭ ১১:৪৯ টাprinter

মানবতাবিরোধী অপরাধ: আজহার-কায়সারের আপিল শুনানি ১০ অক্টোবর

 

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মো. কায়সারের আপিল শুনানি হবে আগামী ১০ অক্টোবর। এছাড়া ২৪ আগস্টের মধ্যে আপিলের সারসংক্ষেপ জমার নির্দেশও দেন আদালত।


এই দুটি মামলা কার্যতালিকায় আসলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ রবিবার (১২ আগস্ট) শুনানির এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।


এর আগে গতকাল শনিবার এই মামলা দুটি রবিবার শুনানির জন্য সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে কার্য তালিকায় ক্রম ২ ও ৩ নম্বরে (ফর অর্ডার) রাখা হয়।


আদালতে আজহারের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন এবং কায়সারের পক্ষে ছিলেন এস এম শাহজাহান। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।


এটিএম আজহার: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম খালাস চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলে তার খালাসের পক্ষে যুক্তি রয়েছে প্রায় ১১৩টি। ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন এই আপিল দায়ের করেন।


এটিএম আজহারুল ইসলামের মূল আপিল আবেদনে ৯০ পৃষ্ঠার সঙ্গে ১১৩ টি গ্রাউন্ডসহ মোট দুই হাজার ৩৪০ পৃষ্ঠার আবেদন জমা দেয়া হয়। আপিল দায়েরের পর তার আইনজীবী শিশির মুহাম্মদ মনির সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আপিলে আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করেছি, তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এ মামলায় সাক্ষীদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য এটিএম আজহারুল ইসলামকে নির্দোষ প্রমাণ করে।


২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল এটিএম আজহারের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তা এস এম ইদ্রিস আলী। ওই বছর ২২ অগাস্ট মগবাজারের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যুদ্ধাপরাধের ছয় ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর আজহারের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল।


বিচার শেষে তার বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগের পাঁচটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ ৬টি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ে ৫টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়।


২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃদ্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। ৫ নম্বর অভিযোগে ২৫ বছর জেল ও ৬ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের জেল দেয়া হয় তাকে। তার ১ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে রায়ে বলা হয়।


রায় ঘোষণার প্রায় এক মাস পর ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি খালাস চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন আজহার। আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর সেই আপিল শুনানির জন্য এবার কার্যতালিকায় আসল।


সৈয়দ মো. কায়সার: জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার খালাস চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিলের পাশাপাশি তাকে বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন জানানো হয়।


২০১৫ সালের ১৯ জানিুয়ারি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল করা হয়। সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন এই আপিল করেছেন। এ মামলার শুনানি করবেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। আড়াই বছরেরও বেশি সময় পর সেই আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসল।


আপিলে খালাসের আরজিতে ৫৬টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। ৫০ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত রয়েছে। 


এরশাদ সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী কায়সার ২০১৩ সালের ২১ মে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি ও ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়। এর মধ্যে ১৪টি ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩, ৫, ৬, ৮, ১০, ১২ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।


এছাড়া ১, ৯, ১৩ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ২ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর, ৭ নম্বরে সাত বছর ও ১১ নম্বরে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। ৪ ও ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ অভিযোগগুলোতে কোনো সাজা দেয়া হয়নি তাকে।


শারীরিক অসুস্থতার কারণে বিচারের প্রায় পুরো সময় তিনি জামিনে ছিলেন।


আপিলে সাত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এখন পর্যন্ত সাতটি আপিলের রায় ঘোষণার পর রিভিউ আবেদনেরও নিষ্পত্তি হয়েছে আপিল বিভাগে। প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার রিভিউ-সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তি হয়। এরপর দলটির নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের আপিলের নিষ্পত্তি হয়।


বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর পর চলতি বছরের ১৫ মার্চ আরেক জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউ আবেদনেরও নিষ্পত্তি করেন আপিল বিভাগ।


মানবতাবিরোধী অপরাধে এ পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এই ছয়জন হলেন- জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আব্দুল কাদের মোল্লা, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

 


Top