‘ঢাবির ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না, এটা অ্যালারমিং’ | daily-sun.com

‘ঢাবির ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না, এটা অ্যালারমিং’

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ আগস্ট, ২০১৭ ১৩:২৪ টাprinter

‘ঢাবির ঐতিহ্য অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না, এটা অ্যালারমিং’

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ঐতিহ্য অনুযায়ী বর্তমানে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দর্শন বিভাগের শিক্ষক খন্দকার তোফায়েল আহমদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট)  প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে ঢাবি প্রভাষক পদে খন্দকার তোফায়েল আহমেদের নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে তিনি আর ঢাবি’র আর শিক্ষক থাকতে পারবেন না।


এ সময় সাবেক কোনও এক ভিসির কথা উল্লেখ করে এবং তার নাম প্রকাশ না করে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, একজন ভিসি পর্যন্ত ঐতিহ্য বজায় রেখে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো। তখন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যারা প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হতেন তাদের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতো। কিন্তু এখন আর সেটি হচ্ছে না। এটা অ্যালারমিং। 


আদালতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আদালতে তোফায়েলের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তোফায়েল এসএসসি পরীক্ষায় মার্ক কম পেয়েছে। হাইকোর্ট তার নিয়োগ অবৈধ করায় তাকে ক্লাস করতে দেওয়া হচ্ছে না। হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদন জানান তিনি। তবে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ রায় স্থগিত না করে ‘নো অর্ডার’ দেন। এই আদেশের ফলে তোফায়েল আহমেদের নিয়োগ অবৈধ থাকলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।


রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সগীর আনোয়ার। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এম এম জি সারোয়ার।


বিজ্ঞপ্তির শর্ত পূরণ না হওয়ায় গত ২৫ জুলাই বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তোফায়েল আহমেদেরে নিয়োগ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন। এছাড়া ওই শূন্য পদে নিয়োগের জন্য নতুন করে কমিটি গঠন করে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। 


হাইকোর্টের এই রায় স্থগিত চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবেদন করেন, যা গত ৩১ জুলাই চেম্বার বিচারপতির আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন চেম্বার বিচারপতি ‘নো অর্ডার’ দিয়ে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় আজ শুনানি হয়।


এর আগে ৩০ জানুয়ারি রিট আবেদনটি করেন ঢাবি দর্শন বিভাগে শিক্ষক পদে আরেক আবেদনকারী এইচ এম মিরাজ সৌরভ। রিট আবেদনে বলা হয়, গত বছরের ২ জুলাই ঢাবির দর্শন বিভাগে দুজন প্রভাষক  নেওয়ার নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের এসএসসি ও এইচএসসি-তে যোগ্যতা চাওয়া হয় সিজিপিএ-৫ এর মধ্যে ন্যূনতম ৪.২৫। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর দুজনকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেয় দর্শন বিভাগ। কিন্তু নিয়োগপ্রাপ্ত দুজনের মধ্যে খন্দকার তোফায়েল আহমেদের সিজিপিএ-৩.১৯। ফলে তিনি এ পদে আবেদন করারই অযোগ্য বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

 


Top