আত্মহত্যা প্ররোচনাকারী এক অনলাইন গেম- ব্লু হোয়েল! | daily-sun.com

আত্মহত্যা প্ররোচনাকারী এক অনলাইন গেম- ব্লু হোয়েল!

ডেইলি সান অনলাইন     ২ আগস্ট, ২০১৭ ১২:১৪ টাprinter

আত্মহত্যা প্ররোচনাকারী এক অনলাইন গেম- ব্লু হোয়েল!

অনলাইন গেম ব্লু হোয়েল। ৫০টি ধাপ। যার সর্ব শেষ পরিণতি মৃত্যু। এমনই একটা অনলাইন গেম চ্যালেঞ্জ নিয়ে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল দিল্লির ১৪ বছরের এক ছাত্র ! প্রাথমিক তদন্তের পর এমনই অনুমান পুলিশের।

 

• এটি একটি অনলাইন গেম। এই গেমে প্রতিযোগীদের মোট ৫০টি আত্মনির্যাতনমূলক লেভেল কমপ্লিট করতে হয়। সেই সমস্ত লেভেল ও তার টাস্কগুলি খুবই ভয়ংকর। গেম যত এগোতে থাকবে টাস্কগুলি অনেক বেশি ভয়ংকর হতে থাকবে। কিন্তু প্রথম দিকের ধাপগুলি অপেক্ষাকৃত কম ভয়ংকর হওয়ায় টাস্কগুলি বেশ মজার। আর সেই কারণেই এই গেমের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়েন কিশোর-কিশোরীরা। পরে আত্মনির্যাতনমূলক বিভিন্ন টাস্ক সামনে এলেও কিশোর-কিশোরীরা এতটাই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন যে, গেম ছেড়ে বেরোতে পারে না।

 

• কেমন সেই আত্মনির্যাতনমূলক টাস্ক? কোনো লেভেলে হয়তো নির্দেশ দেওয়া হয় নিজের শরীরে একাধিক সূচ বিঁধতে। কোনো লেভেলে নির্দেশ দেওয়া হয় নিজের হাতকে রক্তাক্ত করতে। তবে গেমের শেষ ধাপ অর্থাৎ ৫০তম ধাপে ইউজারদের এমন কিছু টাস্ক দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ করা মানেই আত্মহত্যা।

 

• এই টাস্কগুলিতে অংশগ্রহণের পর সেই ছবি পোস্ট করতে হয় এর গেমিং পেজে। প্রতিযোগিতার একেবারে শেষ পর্যায়ে, অর্থাৎ ৫০তম টাস্কের শর্তই হলো আত্মহনন।

 

• এই গেমিং অ্যাপ মোবাইলে একবার ডাউনলোড হয়ে গেলে তা আর কোনো ভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, ওই মোবাইলে ক্রমাগত নোটিফিকেশন আসতে থাকে যা ওই মোবাইলের ইউজারকে এই গেম খেলতে বাধ্য করে।

 

 

সারা বিশ্বে অন্তত ১৩০ জন মানুষের আত্মহননের জন্য পরোক্ষে দায়ী এই অনলাইন গেম। এসকল আত্মহত্যার কারণ খুঁজতে গিয়ে

পুলিশ হন্যে হয়ে খুজতে থাকে ফিলিপকে। কিন্তু সকলের প্রশ্ন জাগে কিন্তু কে এই ফিলিপ? কেনই বা তার জন্য নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন তরুণ-তরুণীরা? রাশিয়ার পুলিশ প্রাপ্ত সূত্র হতে জানা যায়, ২১ বছর বয়সী ফিলিপ ছিল রাশিয়ারই একজন বাসিন্দা। সে ভিকোন্তাক্তে নামক সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’ নামের এই সোশ্যাল গেমিংটির পেজের অ্যাডমিন ছিল। স্বভাবতই, পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পরে তার উপর। শেষমেশ বেশ কিছুদিন তদন্ত চালিয়ে ফিলিপ-কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 

 

পুলিশের তীব্র জেরায় এই গেম চালানোর কথা স্বীকারও করে নেয় ফিলিপ। কিন্তু সে এইসব মৃত্যুর দায় নিতে অস্বীকার করে। সে কোনোভাবেই তার এই অনলাইন গেমকে অপরাধ বলে মানতে রাজি নন। তার বক্তব্য, সে তার খেলার মধ্য দিয়ে সমাজের ‘শুদ্ধিকরণ’ করছে। সে গর্বের সাথে বলতে থাকে, সমাজে যাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়, তাদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়াই ছিল তার লক্ষ্য। ফিলিপের মুখে এই সমস্ত কথা শুনে তার মানসিক সুস্থতা নিয়েই সন্দেহ জাগে পুলিশের মনে। ফিলিপ বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গের ক্রিস্টি জেলে বন্দী।

 

 

অ্যাডমিন গ্রেফতার হলেই সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পেজ বন্ধ হয়ে যায় না। ফিলিপকে বন্দী করা গেলেও তার পেজের কার্যক্রম থেমে থাকেনি এবং পেজটি বন্ধও হয়নি। ফলে পেজটি নিয়ে পুলিশের মনে চিন্তার রেখা থেকেই যাচ্ছে। বর্তমানে ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’টি রাশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে ব্রিটেনের তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর ফলে চিন্তা বাড়ছে ইউরোপের একাধিক মনোবিজ্ঞানী এবং সমাজবিজ্ঞানীদের। স্কুল কলেজ থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং অভিভাবকদের সর্তক করে দেয়া হচ্ছে যেন তারা তাদের সন্তানদের এই গেম থেকে দূরে রাখে। তাই সুইসাইড গেমের এই পেজটিকে নিষিদ্ধ করার কথাই ভাবছে পুলিশ-প্রশাসন।

 


Top