বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি: গেজেট প্রকাশে আরও এক সপ্তাহ সময় পেল সরকার | daily-sun.com

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি: গেজেট প্রকাশে আরও এক সপ্তাহ সময় পেল সরকার

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ জুলাই, ২০১৭ ১১:১১ টাprinter

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি: গেজেট প্রকাশে আরও এক সপ্তাহ সময় পেল সরকার

 

অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশে সরকারকে আবারও এক সপ্তাহ সময় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (১৭ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই সময় মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।


এর আগে গতকাল রবিবার বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করার জন্য সরকারকে দেয়া ২ সপ্তাহ সময় শেষ হয়। ওই দিন সকালে এ সংক্রান্ত বিষয়ে আদেশের বিষয়ে ‘আজ নয় কাল’ বলে উঠে যান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এসময় তার সঙ্গে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের বিচারপতিরাও নিজ কামরায় ফিরে যান।


তখন এ বিষয়ে সোমবার শুনানি হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।


আজ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিচারকদের চাকরি শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আবেদনের উপর শুনানি শেষে এক সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন সর্বোচ্চ আদালত।


অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি প্রণয়নে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত গেজেট প্রণয়নে ১৬ বারের মতো সময় নিল সরকার।


এর আগে গত ৮ মে শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রণয়নে সরকারকে এক সপ্তাহের সময় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। গেজেট প্রকাশ না করার বিষয়ে ইঙ্গিত করে ওই দিন প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, আড়াই বছরে যেহেতু সম্ভব হয়নি, আড়াই হাজার বছরেও মনে হয় তা সম্ভব হবে না।


জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনাসহ রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের ৭ম দফায় আলাদা আচরণ ও শৃংখলাবিধি প্রণয়নের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু সেটি আজও প্রণয়ন হয়নি।


এ অবস্থায় একাধিকবার আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃংখলাবিধি তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। এরপর সুপ্রিম কোর্ট থেকে একটি কমিটি গঠন করে ওই খসড়া বিধিমালা সংশোধন করে গেজেট জারির জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।


এ বিষয়ে শুনানিকালে গত বছরের ২৮ আগস্ট আপিল বিভাগ বলেন, একটি খসড়া ডিসিপ্লিনারি রুলস তারা (সরকার) দাখিল করেছে। এটি ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এখন আমরা কমিটি করে একটি শৃংখলাবিধি তৈরি করে দিয়েছি। এটির আলোকে গেজেট জারি করে ৬ নভেম্বর আপিল বিভাগকে জানাতে সরকারের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়।


এরপর সরকার একের পর এক সময় চাইতে থাকেন। এক পর্যায়ে গত ডিসেম্বরে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে আপিল বিভাগে তলব করা হয়। ১২ ডিসেম্বর দুই সচিবকে হাজির হয়ে এই শৃংখলাবিধির গেজেট জারির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।


এ অবস্থায় গত বছরের ১১ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি পত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয়, 'অধস্তন আদালতের বিচারকগণের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রস্তাবিত আচরণ ও শৃংখলাবিধির খসড়া গেজেটে প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা নেই। এ ব্যাপারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সানুগ্রহ সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।'


১২ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব হাজির হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মাধ্যমে আদালতের কাছে এই পত্র তুলে ধরেন।


ওইদিন আপিল বিভাগ বলেন, 'এটা কী লিখেছেন। আমরা তো খসড়া বিধিমালার কোনো প্রস্তাব দেইনি। মাসদার হোসেন মামলার ১২ দফা নির্দেশনায় এই আলাদা চাকরিবিধি তৈরির কথা আছে। ১৪ বছরেও এই বিধি তৈরি হয়নি। সে নির্দেশনা অনুযায়ী ওই বিধির খসড়া আপনারাই তৈরি করে পাঠিয়েছিলেন। সরকার যে খসড়া পাঠিয়েছিল মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে ওই খসড়া সংশোধন করে দিয়েছি মাত্র। আমরা তো কোনো প্রস্তাব পাঠাইনি। রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে।'


শুনানি শেষে আদালত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ওই শৃংখলাবিধির গেজেট জারি করার জন্য নির্দেশ দিয়ে ওইদিন পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন। এরপরও দফায় দফায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সময় আবেদন করা হয়। সর্বশেষ গত ১৫ মে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের ভিত্তিতে আপিল বিভাগ ২৮ মে পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেছিলেন। সে অনুযায়ী আজ গেজেট জারির আদেশ বাস্তবায়ন না করেই রাষ্ট্রপক্ষ ফের সময় চেয়ে আবেদন দাখিল করে।


আরও পড়ুন:

 

আগামী সপ্তাহেই বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি: আইনমন্ত্রী​


এটাই লাস্ট চান্স: অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রধান বিচারপতি


আইন না জেনে মন্ত্রণালয় ব্যবধান সৃষ্টি করছে: প্রধান বিচারপতি


সুপ্রিম কোর্ট থেকে বঙ্গভবন কত দূর? সরকারকে আপিল বিভাগের প্রশ্ন


আইন মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতায় বিচার বিভাগ অকেজো হচ্ছে: প্রধান বিচারপতি

 


Top