শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকা পোড়ানোয় ক্ষুব্ধ মমতা বন্দোপাধ্যায় | daily-sun.com

শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকা পোড়ানোয় ক্ষুব্ধ মমতা বন্দোপাধ্যায়

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ জুলাই, ২০১৭ ১০:২১ টাprinter

শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকা পোড়ানোয় ক্ষুব্ধ মমতা বন্দোপাধ্যায়

 

কলকাতায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিক্ষোভে শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে শনিবার চিঠি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে অবমাননা করা হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে সেটা শুভ সংকেত বয়ে আনবে না!


তিনি বলেন, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ যেভাবে সেদিন বিক্ষোভ করেছে, তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে মোটেই মজবুত করবে না। কেন্দ্র যদি সত্যিই ঢাকাকে পাশে পেতে চায়, তা হলে সংঘ পরিবারের এহেন জঙ্গিপনা বন্ধ করার ব্যবস্থা করুক। 


১ জুলাই কলকাতার পার্ক সার্কাসে বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদকর্মীরা। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের বিহিত চেয়েই সেদিন বিক্ষোভ হয় বলে পরিষদ দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, শেখ হাসিনা ভারতবাসীর পছন্দের নেত্রী। কিন্তু যেভাবে তার আমলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে তা নিন্দনীয়। বাংলাদেশ সরকার যাতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সেই দাবিতেই বিক্ষোভ হয়েছিল। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র সৌরীশ মুখোপাধ্যায় জানান, এ বিক্ষোভে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে বলে তারা মনে করেন না।


আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মমতা প্রশাসন অবশ্য মনে করে, কোনো বন্ধু দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ানো মোটেই ভালো কাজ নয়। যখন একদিকে চীন এবং অন্যদিকে পাকিস্তান ভারতকে বিব্রত করছে, তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এমন আচরণ মানা যায় না।


দলের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কাজ করা তৃণমূল কংগ্রেসের এক সিনিয়র সংসদ সদস্য বলেন, ‘শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে পরিষদের নেতাকর্মীরা সেদিন যেভাবে তাকে অপমান করেছেন, তৃণমূল নেত্রী তা মোটেও ভালোভাবে নেননি। একদিকে পাকিস্তান ও অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে যখন চরম উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে, তখন দেশের সবচেয়ে বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশীর প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এ ধরনের আচরণ চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় বলেই আমরা মনে করছি।’


অতীতে অবশ্য তিস্তার জল বণ্টনের প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গে স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছেন মমতা। তিনি বাংলাদেশকে জল দিতে রাজি হননি।


যদিও মমতা বরাবরই জানিয়েছেন, হাসিনার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তার কোনো দিনই খারাপ নয়। পাশাপাশি রাজ্যের স্বার্থও তিনি ক্ষুণœ হতে দেবেন না। সেই কারণেই বিদেশমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি।


এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এদিন দিল্লিতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের চিঠি নিয়ে তিনি বা তার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কোনও মন্তব্য করেননি।

 


Top