বস-২ এর পরিচালক যাদবের ছেলে নায়ক জিৎ | daily-sun.com

বস-২ এর পরিচালক যাদবের ছেলে নায়ক জিৎ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ জুন, ২০১৭ ১৬:২৩ টাprinter

বস-২ এর পরিচালক যাদবের ছেলে নায়ক জিৎ

এই প্রথম মৌলিক স্ক্রিপ্টে কাজ করলেন।

সেই কারণে ছবিটা থেকে আমার প্রত্যাশাও অনেকটা বেশি।

প্রায়ই একটা কথা শুনতে হয়, যে আমি নাকি শুধু রিমেক ছবিই বানাই। আমার নাকি কোনও কল্পনাশক্তিই নেই। ‘বস্‌ টু’এর ক্ষেত্রে কিন্তু আমার সুবিধাই হয়েছে। আমি তো কোরিওগ্রাফার। গানের আগে এবং পরে কোন সিকোয়েন্স রয়েছে— সেটা আমাদের ব্রিফ করা হয় মাত্র। মাঝের তিন-চার মিনিটের গানের অংশটা আমাদের বানিয়ে নিতে হয়। এত বছরের অভিজ্ঞতা শেষে কাজে এল। তবে আগে যে রিমেকগুলো বানিয়েছিলাম সেখানে স্টোরিলাইনটা নিয়েছিলাম মাত্র। ৭০ কোটি টাকা বাজেটের একটা ছবির রিমেক মাত্র পাঁচ কোটিতে বানানোটাও ক্রিয়েটিভিটি, তাই না (হাসি)! 

 

‘বস্‌ টু’এর গল্পটা কেমন?


‘বস্‌’এ সূর্য (জিৎ) ভারতে মাফিয়া সাম্রাজ্যকে আইনসম্মত করতে চেয়েছিল।

এখানে মুম্বাইয়ে থাকার সময় সূর্য এমন কিছু গরিব মানুষকে দেখতে পায়, যাদের মাথার উপর ছাদ নেই। যাদের সন্তানরা পড়াশোনা করতে পারে না আর্থিক কারণে। সূর্য ওদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে।  

 

অনেকে তো বলছেন ‘বস্‌ টু’ নাকি জিৎ, শুভশ্রী এবং নুসরাত ফারিয়ার ত্রিকোণ প্রেমের গল্প!
একেবারেই নয়। ফর মি ইট্‌স আ রোল ওরিয়েন্টেড স্টোরি। হার্ডকোর থ্রিলার। আরে প্রেমের গল্প বানানোর জন্য অনেক সময় পড়ে রয়েছে (হাসি)।

 

পরিচালক হিসেবে কেরিয়ারে ছবির সংখ্যা চার। এর মধ্যেই তো কমার্শিয়াল ছবিতে নিজের জায়গা পোক্ত করে ফেলেছেন।  

এটাকে আমার পরিশ্রমের ফসল হিসেবেই দেখছি। লোকজন ইদানীং আমাকে পরিচালকের সম্মান দিচ্ছেন— এটাই অনেক (হাসি)! বাবা যাদব দ্য কোরিওগ্রাফার— সারা বছর তো এটাই শুনতে হয়। ইটস নাইস টু বি ইন দ্য ডিরেক্টর’স শ্যুজ, অ্যান্ড ইট্‌স নট অ্যান ইজি জব! আগে সেট’এ কোরিওগ্রাফি করতে গিয়ে দেখতাম, পরিচালকরা সারাক্ষণ টেনশন করছে। আমি প্রশ্ন করলে বলত, ‘তেরেকো নেহি পতা। তু তো গানা কর লেগা, মেরা তো পুরা পিকচার বাকি হ্যায়’। পরিচালকের প্রেশার যে কতটা, সেটা এখন বুঝতে পারি।

 

আপনার প্রতিটা ছবিতেই নায়ক জিৎ। ব্যাপারটা কী বলুন তো?
অ্যায়সা কোই বাত নেহি হ্যায় ইয়ার! পুরোটাই ভাগ্য। উই লাভ ইচ আদার। জিতের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা একেবারেই কাজ সম্পর্কিত নয়। আমরা কখনও স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা করি না। কাজ বাদে বাকি সব বিষয় থাকে আমাদের আলোচনায়। ‘বস্‌ টু’ রিলিজ হয়ে গেলে, অন্তত তিন-চারমাস ‘চিল’ করব। তারপর পরের প্রজেক্টের কথা ভাবব। জিৎ আমাকে প্রেফারেন্স দেয়, অ্যান্ড দ্যাট্‌স সো সুইট অফ হিম। জিতই তো চেয়েছিল, ঈদের সময় আমি ওঁর সঙ্গে ছবি করি। দেখুন, জিৎ চাইলে যে কোনও ভাল পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতেই পারে। কিন্তু আমাকে পরিচালক বানানোর আইডিয়াটা ওরই ছিল।

 

পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক ছবি ছেড়ে অন্য জঁরের ছবি বানানোর কোনও পরিকল্পনা রয়েছে?
ইনফ্যাক্ট, আমার পরের প্রজেক্টটাতেই নতুন কিছু করার ইচ্ছে রয়েছে। ছিলাম তো কোরিওগ্রাফার। অন্য কিছু করার ইচ্ছে হয়েছিল বলেই পরিচালনায় এসেছি। এবার নতুন কী ধরনের ছবি বানানো যায়, সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। কয়েকটা কনসেপ্টও মাথায় রয়েছে।  

 

বস্‌ টু’ তো যৌথ প্রযোজনার ছবি। নিন্দকেরা বলছেন, যৌথ প্রযোজনার ছবি নাকি সেভাবে বাজার পাচ্ছে না।
এসব কথা কে বলে বলুন তো? আমার শেষ ছবি ‘বাদশা’ সুপারহিট হয়েছিল। গত ২৫ বছরের বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে ‘বাদশা’ সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করেছিল। আমি তো যৌথ প্রযোজনা বিষয়টাকে দারুণভাবে সমর্থন করি। আর ওখানকার মানুষের ভালবাসা পেলে আপনি মুগ্ধ হয়ে যাবেন। আমাদের এখানে সেট’এ দিনে চারবার খাবার আসে। কিন্তু ওখানে অন্তত ১২ বার খাবার আসবেই। কম বাজেটে কীভাবে ওঁরা ছবি বানান, সেটাও আমাদের শেখা উচিত। বাংলা ছবির ট্রেলার দেখে বলিউডের লোকজন চমকে যায় জানেন। ‘বস্‌ টু’র কথাই ধরুন। আমরা এটা অ্যাচিভ করেছি!  আমরা সেট’এ এক মুহূর্ত সময় ব্যয় করি না। বলিউডে সকালে সেট’এ এসে চা খেয়ে ব্রেকফাস্ট করে কাজ শুরু হয়। কিন্তু আমাদের এখানে শট শেষ করে বাকি সবকিছু করি আমরা। এই ব্যাপারটা বাংলাদেশেও রয়েছে। আর বাংলাদেশের অভিনেতারা এদেশে এসে কাজ করছেন, এটা তো ভাল ব্যাপার। নুসরাত ফারিয়ার কথাই ধরুন। ও যে কোনও বলিউড অভিনেত্রীর চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।  

 

ছবির একটা গান নিয়েও তো প্রবল বিতর্ক চলছে।
(হতাশ গলায়) ২০০২ সাল থেকে আমি কোরিওগ্রাফি করছি। কেরিয়ারে এত ধরনের গানে কাজ করেছি, কখনও এমন অভিযোগ আসেনি! আমরা নাকি মুসলিমদের টার্গেট করার চেষ্টা করেছি। সেট’এ তো বিভিন্ন ধর্মের মানুষ থাকেন। সকলে নিয়েই আমরা কাজ করি। ‘আল্লাহ মেহেরবান’ নিয়ে এখানে এত কথা হচ্ছে। বলিউডেও কিন্তু আমি এমন অনেক গানে কোরিওগ্রাফ করেছি, যেখানে ‘আল্লাহ’র উল্লেখ রয়েছে। এবং যেটা ডান্স নাম্বার। ‘আল্লাহ মেহেরবান’ থেকে অনেক কিছু শিখলাম। যদি গানটা কারও ভাবাবেগে আঘাত করে থাকে, তাহলে এমন কিছু ভবিষ্যতে আর করব না। সেই কারণে গানের লাইন বদলে আমরা ‘ইয়ারা মেহেরবান’ করছি। তবে পুরো এই বিষয়টায় এক ইয়ং ট্যালেন্টের খুব ক্ষতি হল!

 

ফারিয়ার কথা বলছেন?
ইয়েস, শি ওয়াজ সো পজিটিভ অ্যাবাউট দ্য সং। প্রচুর পরিশ্রমও করেছিল ও। আমরা দর্শককে এনটারটেন করতে চেয়েছিলাম। তবে এটাও ঠিক, বাংলাদেশও একটা বড় দেশ। হতেই পারে সেখানে মানুষের মানসিকতা আলাদা। আর আমাদের কথা ছেড়ে দিন, আমরা জীবনে অনেক কিছু দেখেছি, শুনেওছি। ফারিয়ার কথাটা ভাবুন।

 

বাংলাদেশে তো ফারিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর’ও করা হয়েছে।
ভাবুন তাহলে! সকলকে আমরা একটাই কথা বলব, আপনারা এই ছবিটা দেখুন। গানটা কিন্তু নেহাত একটা আইটেম নম্বর নয়। গানটা ছবিতে ফারিয়ার এন্ট্রি সং। ফারিয়ার করা চরিত্রটা কীভাবে জীবন কাটাচ্ছিল, সেটাই ওই গানে তুলে ধরা হয়েছে। ‘আল্লাহ’ শব্দটা গানে কেন ব্যবহার করা হয়েছে, সেটার পিছনেও কারণ রয়েছে। বিকজ দে ওয়্যার আস্কিং আল্লাহ টু হেল্প দেম। ভিডিওটা দেখলেই বুঝবেন, জিতের এক্সপ্রেশনে যন্ত্রণা ফুটে উঠেছে। এতদিনের পরিশ্রম যদি কারও ভাল না লাগে, তাহলে সেটা আমাদেরও কষ্ট দেয়।  

 

সৌজন্যে - এবেলা 


Top