আপনার আশেপাশের লোকদের সম্পর্কেই সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রিজভী | daily-sun.com

আপনার আশেপাশের লোকদের সম্পর্কেই সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রিজভী

ডেইলি সান অনলাইন     ১৮ মে, ২০১৭ ১৮:৪৬ টাprinter

আপনার আশেপাশের লোকদের সম্পর্কেই সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রিজভী

 

প্রধানমন্ত্রীকে আশেপাশের লোকদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিছুটা হলেও উপলব্ধি করেছেন যে, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতারাও জড়িত ছিলেন। সুতরাং অন্যদের দিকে অভিযোগ করে কোনও লাভ নেই। আপনার আশেপাশের লোকদের সম্পর্কেই সতর্ক থাকুন।’


আজ বৃহস্পতিবার (১৮ মে) দুপুরে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সরকারপ্রধান যে বক্তব্য রেখেছেন সেখানে কিছুটা সত্য উপলব্ধি থাকলেও বেশির ভাগই হচ্ছে তার স্বভাবসুলভ এবং অনর্গল মিথ্যাচারেরই পুনরাবৃত্তি। আমি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলতে চাই, যারা আপনার বাবার রক্ত ডিঙিয়ে শপথ নিয়েছেন এবং সেই শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন তারা ১৯৮১ সালের ১৭ মে থেকে কী করে আপনার অধীনে রাজনীতি করলেন, এমপি হলেন, মন্ত্রী ও উপদেষ্টা হলেন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদ পেলেন? আমরা জানি, আপনার বাবার মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের সঙ্গে অভিযুক্তদের ব্যাপারে আপনি ক্ষমাহীন। তাহলে এখনো কী করে আপনি এইচ টি ইমামকে সহ্য করছেন এবং মন্ত্রীর পদমর্যাদায় আপনার উপদেষ্টা বানিয়েছেন?’


তার ভাষ্য, ‘ওই সময়ে প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল শফিউল্লাহ, যার কাছে আপনার বাবা রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহায্য চেয়েছিলেন। শফিউল্লাহ সাহেব তখন আপনার পিতাকে প্রাচীর টপকে পালিয়ে যেতে বলেছিলেন। রাষ্ট্রপতিকে রক্ষা করা যার প্রধান দায়িত্ব ছিল, তিনি কিনা কাপুরুষোচিত পরামর্শ দিলেন রাষ্ট্রপতিকে। সেই শফিউল্লাহ সাহেবকেও আপনি আপনার দলের টিকিটে এমপি ও একটি সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানও বানিয়েছিলেন।’


রিজভী আরও বলেন, ‘বিদেশ থেকে আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতা ও তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পিকার আপনার পরিবারের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন-‘ফেরাউনের পতন হয়েছে।’ সেই আওয়ামী লীগ নেতা মালেক উকিল সাহেবের পুনরুজ্জীবিত আওয়ামী লীগেই আপনি সভাপতি হয়েছিলেন। যারা ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিলেন সেই ইনু-মতিয়া চৌধুরীরা এখন আপনার মন্ত্রীসভা আলোকিত করে বসে আছেন।’


প্রসঙ্গত, বুধবার (১৭ মে) শেখ হাসিনার ৩৭তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীরা গণভবনে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘরের ভেতর থেকে শত্রুতা না করলে বাইরের শত্রু সুযোগ পায় না। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের অনেকেই আমাদের বাসায় আসা যাওয়া করতো। এরা কেউ দূরের না, এরাই ষড়যন্ত্র করল।’


বরকত উল্লাহ বুলুকে কারাগারে পাঠানোর প্রসঙ্গ তুলে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজ মিথ্যা মামলায় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এটি সরকারের প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির আরেকটি বর্ধিত প্রকাশ। বিএনপির পক্ষ থেকে আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্তে মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’


প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, যে গণতন্ত্রকে বন্দি করেছেন সেটিকে মুক্ত করুন। মানুষের নাগরিক অধিকার, ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিন। আপনাদের অন্তর থেকে আবারও একদলীয় নির্বাচনের বাসনা পরিত্যাগ করুন। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।


রিজভী আরও বলেন, ‘হিংসাপরায়ণ রাজনীতি পরিহার করুন। মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য ও কুৎসিত রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখুন। গণতন্ত্রের ধারা সচল থাকলে অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিতে পারে না।’


খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ‘গত দুদিন আগে সরকারের খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, চালের মূল্য বৃদ্ধির কারণ হিসেবে অসাধু মজুদদার ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা দায়ী। তিনি বিএনপিকে দোষারোপ করে বলেছেন, চালের বাজার অস্থিতিশীল করার পেছনে বিএনপি কলকাঠি নাড়ছে। আমি কামরুল ইসলাম সাহেবের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, হাওর অঞ্চলে তিনি ফসলহানি নিয়ে ডাহা মিথ্যাচার করেছেন। হাওর এলাকার প্রায় সম্পূর্ণ ফসল বিনষ্ট হয়েছে। এখন হাওরে ৭৪’র দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শুনতে পাওয়া যায়।’

 


Top