আর্বান টিবি ইনিশিয়েটিভ কনফারেন্সে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব আরোপ | daily-sun.com

আর্বান টিবি ইনিশিয়েটিভ কনফারেন্সে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব আরোপ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৬ মে, ২০১৭ ০৭:২৩ টাprinter

 আর্বান টিবি ইনিশিয়েটিভ কনফারেন্সে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব আরোপ


গত ১৫-১৬ মে ২০১৭ তারিখে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত হোটেল লেকশোর-এ ‘কনফারেন্স অন আর্বান টিবি ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ২দিনব্যাপী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জাতীয় যক্ষ্মা নিরাময় কর্মসূচীর সাথে যৌথভাবে এই সম্মেলনটি আয়োজন করে ইউএসএআইডি পরিচালিত প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জ টিবি বাংলাদেশ।  

 

দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষজ্ঞগণ-সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞগণ বড় বড় শহরগুলোতে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে কী ধরণের উদ্যোগ এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে সেই ব্যাপারে বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে যক্ষ্মা নিরাময় কর্মসূচীর সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের কাজের সুবিধার্থে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যক্ষ্মা নিরাময়ে যে ধরণের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে সেই সকল অভিজ্ঞতাও এই সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। 

 

এই সম্মেলনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের, ডিরেক্টর জেনারেল অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব হেল্থ সার্ভিসেস, অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল এবং লাইন ডিরেক্টর টিবি ও এসপি, ডিজিএইচএস, ড. মো. এহতেশামুল হক চৌধুরী, ড. রুসেলি হক, ডিরেক্টর, টিবি লেপরোসি, ড. মো. আশরাফুদ্দিন, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, এনটিবি, ব্রি. জে. ড. এস এম এম সালেহ ভুইয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং ব্রি. জে. ড. শেখ সালাউদ্দিন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন উপস্থিত ছিলেন। ড. আজাদ তাঁর বক্তৃতায় বলেন যে, স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয় দেশের সকল নাগরিকের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে যার মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সর্ববৃহৎ। যক্ষ্মা নির্মূলে আমরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছি কিন্তু শহরাঞ্চলে এই রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আমাদের আরো পরিশ্রমী এবং উদ্যোগী হতে হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান শহরাঞ্চলে যক্ষ্মা নিরাময়ে নতুন দিক-নির্দেশনা দেবে বলে তিনি আশা করেন।  

 

যক্ষ্মা নিরাময় বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রসিদ্ধ বিশেষজ্ঞগণও এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক সালমান কেশভজী, পরিচালক, সেন্টার ফর গ্লোবাল হেল্থ ডেলিভারি-দুবাই, হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল, ডেভিড ডাওডি, সহযোগী অধ্যাপক, জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটি, ড. রামইয়া আনান্থাকৃষ্ণান, নির্বাহী পরিচালক, আরইএসিএইচ, ভারত, শিবু ভিজায়ন, পরিচালক টিবি-এইচআইভি, প্যাথ ইন্ডিয়া কান্ট্রি প্রোগ্রাম এবং এন্ড্রু কডলিন, স্টপ টিবি পার্টনারশিপ সম্মেলনে যক্ষ্মা নিরাময় বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন। 


 
এই সম্মেলন থেকে অর্জিত সিদ্ধান্ত এবং জ্ঞানসমূহ শহরাঞ্চলে যক্ষ্মা নির্মূলে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে সহায়তা করবে। এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন বড় বড় শহরে যে সকল প্রতিষ্ঠান যক্ষ্মা নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে তাদের ভূমিকা ও দায়িত্ব কেমন হওয়া উচিৎ সে সম্পর্কেও সুস্পষ্ট ধারণা দিতে এই সম্মেলন বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন। 

 

উল্লেখ্য, জাতীয় যক্ষ্মা নিরাময় কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য ইউএসএআইডি এর ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম চ্যালেঞ্জ টিবি বাংলাদেশ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৪-২০১৯ অর্থবছরে সর্বমোট ৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলার ব্যয় করছে। চ্যালেঞ্জ টিবি বাংলাদেশ প্রকল্পের মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগীদের পরিপূর্ণ সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়িত হচ্ছে।  

 


Top