আতিয়া মহলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট | daily-sun.com

আতিয়া মহলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ এপ্রিল, ২০১৭ ১৩:১৯ টাprinter

আতিয়া মহলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট

 

সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ীর জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’ গেছেন র‌্যাবের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল। সেখানে আর কোনও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক আছে কিনা তা খুঁজে দেখছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সিলেট র‌্যাব-৯ এর সদস্যরা।


সোমবার (৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে আতিয়া মহলে কাজ শুরু করে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। আর তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে সিলেট র‌্যাব-৯ এর একটি দল। এদিকে, র‌্যাব ও বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সঙ্গে সাপোর্টিং হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। আতিয়া মহলের চারপাশে পুলিশ, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিসের ফোর্স ছাড়াও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা অবস্থান করছেন।  
  

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় র‌্যাবের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল বাড়িটির আশপাশ পরিদর্শন করেন। এ সময় বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় আতিয়া মহলের আশপাশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ। র‌্যাবের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, প্রথমে ডগ স্কোয়াড দিয়ে আতিয়া মহলের অভ্যন্তরে তল্লাশি করা হবে। এরপর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ টিম অভ্যন্তরে প্রবেশ করবেন।  


সিলেট মহানগর পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা জানান, সোমবার সকালে ঢাকা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সিলেটের আতিয়া মহল পুরোটাই ঘুরে দেখেছেন।

এ সময় তারা বিভিন্ন বিস্ফোরকের বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করেছেন। ডিসপোজাল ইউনিটের সঙ্গে সিলেট র‌্যাব-৯ এর একটি দল কাজ করে যাচ্ছে। আর পুলিশ এ দুটি বাহিনীর সঙ্গে সাপোর্টিং হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। দুপুরের দিকে তারা ঢাকায় তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আতিয়া মহলের সার্বিক বিষয় তুলে ধরবেন। এরপর তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ শুরু করবেন।
  
  
জঙ্গি নির্মূলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমোন্ডোর পরিচালিত অপারেশন টোয়ালাইটের শেষ দিন ২৮ মার্চ ২ জঙ্গি নিহত হয়। এর পর থেকে লাশ দুটি সেখানেই রয়েছে।  


প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) দিনগত রাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন শিববাড়ী এলাকায়  ‘আতিয়া মহল’ নামে পাঁচতলা একটি বাড়ির নিচতলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে বলে জানতে পারে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে আতিয়া মহল বাড়ির ভেতর থেকে বাইরের দিকে গ্রেনেড ছোড়া হয় বলে জানায় স্থানীয়রা। এরপর আতিয়া মহল ঘিরে রাখে পুলিশ।  জঙ্গি আস্তানায় অভিযান পরিচালনার জন্য শুক্রবারা বিকালে সোয়াত টিম ও রাত সাড়ে ৭টার দিকে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আর অভিযানে নেতৃত্ব দিতে রাত ৪টার দিকে সিলেটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। শনিবার ভোরে  আতিয়া মহলে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’নামে অভিযান শুরু করে সোয়াট ও সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো বাহিনী।  


এরপর শনিবার সন্ধ্যায় পাঠানপাড়ায় শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে অভিযান নিয়ে সেনাবাহিনীর প্রেস ব্রিফিংয়ের স্থলের অদূরে এক বিস্ফোরণ ঘটে। বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দু্ই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন ব্যক্তি নিহত হন।  নিহতরা হলেন, জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য চৌধুরী মুহাম্মদ আবু কায়সার দীপু, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের উপ পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফাহিম, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওয়াহিদুল ইসলাম অপু , শহীদুল ইসলাম ও আব্দুল কাদের। এছাড়াও ওই ঘটনায় বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে আরও ৩০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে গত রবিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দুইদিন চিকিৎসার পর চিকিৎসকদের পরামর্শেই গত বুধবার (২৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা আনার পর আবার সিএমএইচে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাত ১২.৫টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।


এতে আতিয়া মহলের অদূরে বোমা বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৭ জন নিহত হন। আর বোমা হামলার এ ঘটনায় ২৬ মার্চ মোগলাবাজার থানার সাব ইন্সপেক্টর শিপলু চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।


এর আগে সোমবার (২৭ মার্চ) রাতে সংবাদ সম্মেলন করে সেনাবাহিনী জানায়, তাদের অভিযানে এক নারীসহ চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। জঙ্গি আস্তানায় আর কোনও জীবিত জঙ্গি নেই। এর পরের দিন অভিযানের পঞ্চম দিনে ভবনটি পুলিশকে বুঝিয়ে দেয় সেনাবাহিনী।  

 


Top