নাসিরপুরে নিহত পুরুষ জঙ্গি নাইক্ষ্যংছড়ির সোহেল! | daily-sun.com

নাসিরপুরে নিহত পুরুষ জঙ্গি নাইক্ষ্যংছড়ির সোহেল!

ডেইলি সান অনলাইন     ১ এপ্রিল, ২০১৭ ১০:৪৩ টাprinter

নাসিরপুরে নিহত পুরুষ জঙ্গি নাইক্ষ্যংছড়ির সোহেল!

 

নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় নিহত পুরুষ জঙ্গি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোহেল বলে ধারণা করছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা। সিটিটিসি ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় দুই বছর আগে সোহেল নাইক্ষ্যংছড়িতে যায়।

সেখানে সে কিছুদিন রাবারের বাগানে কাজ করে। এরপর কাপড়ের ব্যবসাও করে। তবে সে মূলত নব্য জেএমবির সদস্য সংগ্রহ করতো। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে।  


সিটিটিসি-র এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আমরা ধারণা করছি, নিহত পুরুষ জঙ্গি নাইক্ষ্যংছড়ির সোহেল। আঙ্গুলের ছাপ ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তার পূর্ণাঙ্গ পরিচয়ের ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। সিটিটিসি সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের ওপর হামলাকারী দুই জঙ্গি আহমেদ আজওয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার ওরফে অমি ও মাহমুদ হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সোহেলের নাম বেরিয়ে আসে।


গত ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের সাধন কুটির থেকে আটক রাজিয়া সুলতানা ওরফে আরজিনা ও জহিরুল হক ওরফে জসিমের কাছ থেকেও সোহেলের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে সাতটি লাশ উদ্ধার করা হয়।

এর মধ্যে একজন পুরুষ, দুজন নারী এবং চারটি শিশু রয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের রেসিডেন্সিয়াল মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) পলাশ রায় এ তথ্য জানান।  


এরও আগে বৃহস্পতিবার বিকালে নাসিরপুরের জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন হিট ব্যাক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, জঙ্গি আস্তানায় সাত থেকে আটটি লাশ রয়েছে। তবে সেগুলো ছিন্নভিন্ন ছিল বলে সঠিক সংখ্যা ওই সময় বলতে পারেননি তিনি।


উল্লেখ্য, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) রাত থেকে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকায় একটি বাড়ি এবং খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকার নাসিরপুর গ্রামের একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়ে ঘিরে রাখে পুলিশ ও সিটিটিসি। বুধবার সন্ধ্যায় নাসিরপুরের আস্তানায় অভিযান শুরু করে সোয়াট। পরে আলোর স্বল্পতার কারণে রাতে অভিযান স্থগিত রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পরে পুনরায় অভিযান শুরু করে সোয়াট। বিকালে অভিযান শেষ হয়।  


এদিকে শহরের বড়হাট এলাকার জঙ্গি আস্তানাটিতে শুক্রবার সকালে অভিযান শুরু করলেও শনিবারও ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আস্তানাটি ঘিরে চলছে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’। এছাড়া কুমিল্লার কোটবাড়ীতেও একটি জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। ‘অপারেশন স্ট্রাইকআউট’ শেষ হয় গতকাল শুক্রবার (৩১ মার্চ) বিকালে। তবে ওই আস্তানায় কোন জঙ্গি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন  চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন,  সন্দেহভাজন ওই আস্তানায় কোনো জঙ্গিকে পাওয়া না গেলেও কয়েকটি বোমা পাওয়া গেছে। সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

 


Top