হোয়াইট হাউসে ঢুকতে সিএনএন-নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বাধা | daily-sun.com

হোয়াইট হাউসে ঢুকতে সিএনএন-নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বাধা

ডেইলি সান অনলাইন     ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ১১:২৩ টাprinter

হোয়াইট হাউসে ঢুকতে সিএনএন-নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বাধা

 

সিএনএন-নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমকে এবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢুকতে দেওয়া হলো না। ক্যামেরায় ধারণ হয় না এমন একটি ব্রিফিংয়ে শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে যেতে পারেনি ওই সংবাদমাধ্যমগুলো।

হাতে গোনা কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।


হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলে একটি টেলিভিশন চ্যানেল, একটি রেডিও, একটি পত্রিকা ও কিছু সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকদের অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এই প্রেস ব্রিফিংয়ে এনবিসি, এবিসি, সিবিএস ও ফক্স নিউজের মতো চার থেকে পাঁচটি বড় টেলিভিশন চ্যানেলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সিএনএনকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়নি। নিউইয়র্ক টাইমসকেও ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, পলিটিকো, বিবিসি, গার্ডিয়ান এবং বাজফিডকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। রক্ষণশীল মতাদর্শের গণমাধ্যম ব্রেইটবার্ট নিউজ, দ্য ওয়াশিংটন টাইমস ও ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্ককে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।


টেলিভিশনে সম্প্রচারিত 'কিউ' ও 'এ' সেশনের মতো ব্রিফিংয়ের চেয়ে কম আনুষ্ঠানিক গ্যাগেল নামে ওই ব্রিফিংয়ে বাধাপ্রাপ্ত অন্য সংবাদমাধ্যমগুলো হলো  হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসারের কার্যালয়ে ওই প্রেস ব্রিফিং হয়। উল্লিখিত পত্রিকা ও সংবাদ সংস্থার কর্মীরা যখন স্পিসার্সের কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন, তখন জানানো হয়, তাঁরা অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় নেই।


গ্যাগেল ব্রিফিংটি করেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার। পরে এক বিবৃতিতে ওই সংবাদমাধ্যমগুলোকে বাধা দেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, যেহেতু হোয়াইট হাউসের পুল রয়েছে, সেহেতু তারা অন্যদের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং আমাদের কাছ থেকে সব তথ্য পাবে।


হোয়াইট হাউসের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে সিএনএন ও নিউ ইয়র্ক টাইমস। এটাকে মিডিয়ার ওপর ট্রাম্পের প্রতিশোধপরায়ণতা ইঙ্গিত দিয়ে সিএনএনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য একটি পদক্ষেপ। মনে হচ্ছে কিছু প্রতিবেদন তাদের মনোপূত না হওয়ায় এখন প্রতিশোধ নিচ্ছে। কিন্তু আমরা নির্দ্বিধায় এমন রিপোর্টিং চালিয়ে যাব।


নিউইয়র্ক টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক ডিন বাকেটও এই আচরণের নিন্দা জানান। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্ক টাইমসসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমকে বর্জন করায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে এ রকম ঘটনা এর আগে ঘটেনি।’


এপি, টাইম ম্যাগাজিন ও ইউএসএ টুডেও ওই ব্রিফিং বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ওয়াশিংটন পোস্ট, পলিটিকোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।


এর কয়েক ঘণ্টা পরে ওয়াশিংটনের কাছে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমের ওপর আবারও ঝাল ঝাড়েন। তিনি বলেন, বেশির ভাগ সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা জনগণের শত্রু।

 


Top