কেন পুরুষ সেজে মাঠে খেলা দেখতে গেলেন ৮ সুন্দরী? | daily-sun.com

কেন পুরুষ সেজে মাঠে খেলা দেখতে গেলেন ৮ সুন্দরী?

ডেইলি সান অনলাইন     ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ১৭:২৮ টাprinter

কেন পুরুষ সেজে মাঠে খেলা দেখতে গেলেন ৮ সুন্দরী?

 

 

সরকারিভাবে খেলার মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবুও খেলা দেখতে নাছোড় ছিলেন সুন্দরী দর্শকরা। তাই পুরুষদের পোশাকে পুরুষ সেজেই খেলা দেখতে গ্যালারিতে বসলেন আট জন ইরানী মহিলা। কেন মহিলাদের লাইভ খেলার স্বাদ থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়? ইরান সরকারের যুক্তি, মাঠে সুন্দরী মহিলারা থাকলে পুরুষ দর্শকরা অশালীন ইঙ্গিত করতে পারেন। তাই এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তিযুক্ত।

 

দক্ষিণ পশ্চিম তেহরানে গত রবিবার খেলা ছিল হা ইস্তেঘলাল ও পার্সিপোলিস— ইরানের ফুটবলের প্রাচীনতম ডার্বি। সেই খেলা দেখতে উত্তেজনা থাকে চরমে। গোটা ইরানই কার্যত ভাগ হয়ে যায়।

 

আট জন সুন্দরীর হঠাৎই সেই খেলা দেখার ইচ্ছা জাগে। তবে সরকারিভাবে জারি রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। কী করা যায়? এমনটা ভাবতে ভাবতেই আট জনে ছক কষেন পুরুষ সাজার।

 

 

যেমন ভাবা তেমন কাজ! নকল গোঁফ, দাঁড়ি লাগিয়ে পুরুষদের পোশাকে সজ্জিত হয়ে আট জনেই রওনা হয়ে যান দক্ষিণ তেহরানের আজাদি স্টেডিয়ামে। সেই ডার্বিতে এস্তেঘলাল জয় পায় ৩-২ ব্যবধানে। তবে সুন্দরীদের সাধ পূরণ হয়নি। কারণ মাঠে ঢোকার সময়েই নিরাপত্তারক্ষীরা চিনে ফেলেন তাঁদের।

 

প্রসঙ্গত, ইরানে ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পরেই খেলার মাঠে মহিলাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। সেই আইন এখনও বলবৎ রয়েছে। তবে বিভিন্ন মহিলা সংগঠনের চাপের কাছে সম্প্রতি নতিস্বীকার করেছেন হাসান রৌহানি সরকার। বাস্কেটবল ও ভলিবলে মহিলাদের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা কিছুটা লাঘব করা হয়েছে। তবে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত পৃথক গ্যালারি থেকে ম্যাচের উত্তেজনা নিতে হয় ইরানীয় মহিলাদের।

 

খেলার মাঠে মহিলাদের প্রতি এমন বৈষম্যমূলক নীতিই উপপাদ্য ছিল বিখ্যাত পরিচালক জাফর পনাহির ‘অফসাইড’ সিনেমা। সূত্রের খবর, খেলার মাঠে বিভিন্ন কায়দায় মহিলা দর্শকদের ঢোকার প্রচেষ্টা অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও ইরানের বিশ্বকাপের যোগ্যতা নির্ণায়ক ম্যাচ দেখতে আজাদি স্টেডিয়ামে ঢুকে পড়তে চেয়েছিলেন কয়েকজন ফুটবলপ্রেমী মহিলা সমর্থক।

 


Top