সুরঞ্জিতকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শেষ শ্রদ্ধা | daily-sun.com

সুরঞ্জিতকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শেষ শ্রদ্ধা

ডেইলি সান অনলাইন     ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ১৭:০৩ টাprinter

সুরঞ্জিতকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শেষ শ্রদ্ধা

 

আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা সদ্যপ্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলমত নির্বিশেষে সব সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতারা।


রবিবার দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে বর্ষীয়ান এই নেতার মরদেহ জাতীয় সংসদ চত্বরের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জীবনী পাঠ করেন সংসদের ক্ষমতাসীন দলের চিফ হুইফ আ স ম ফিরোজ। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত।


তিনি বলেন, আমার পিতা অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার মানুষ ছিলেন। তার কাছে কোনও কাজ নিয়ে গিয়ে কেউ খালি হাতে ফিরেননি। আমি আজ অভিভাবকহীন, তবে আমি নিজে তা মনে করি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় আমাদের পরিবারের পাশে ছিলেন। আমি আশা করি তিনি এখনও আমাদের পরিবারের পাশে থাকবেন। 


এরপর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।


গার্ড অব অনার শেষে বিকেল পৌনে ৪টায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, ডেপুটি স্পিকার, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ এবং পরে ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিভিন্ন সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ ল্যাবএইডের হিমাগারে রাখা হয়।


আগামীকাল সোমবার সকালে তার মরদেহ হেলিকপ্টারযোগে সিলেট হয়ে গ্রামের বাড়ি দিরাইতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে স্থানীয় জনগণের শ্রদ্ধা জানানো শেষে তাকে সমাহিত করা হবে।


রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ২৪ মিনিটের দিকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে মারা যান। সেখান থেকে সকাল ৯টার দিকে তার মরদেহ নগরীর জিগাতলার বাসায় আনা হয়।


দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ। শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।


১৯৪৬ সালে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের আনোয়ারাপুরে জন্ম নেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এই প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর তিনি রেলমন্ত্রী হন। পরবর্তীতে তাকে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়। 


সুরঞ্জিত সেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি পাশের পর আইন পেশায় যুক্ত হন তিনি। বর্তমান সংসদের আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন সুরঞ্জিত সেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলেরও সদস্য ছিলেন তিনি।

 


Top