রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও জীবিকার নিশ্চয়তার দাবি বাংলাদেশের | daily-sun.com

রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও জীবিকার নিশ্চয়তার দাবি বাংলাদেশের

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ জানুয়ারী, ২০১৭ ১৪:৫১ টাprinter

রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও জীবিকার নিশ্চয়তার দাবি বাংলাদেশের

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে। যাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম নাগরিকরা পূর্ণ নিরাপত্তা ও জীবিকার নিশ্চয়তাসহ দ্রুত নিজ আবাসে ফিরে যেতে পারেন। একই সঙ্গে রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলিম এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর গণহারে বাংলাদেশে আসার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে মূল সমস্যার সমাধানের জন্যও মিয়ানমারকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।


মিয়ানমারের অং সান সু চির বিশেষ দূত এবং দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চাও তিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এ কথা জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

      
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের বিষয়ে আলোচনার জন্য মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি তাঁর বিশেষ দূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চাও তিনকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। মিয়ানমারের বিশেষ দূত গতকাল বুধবার পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ ছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অং সান সু চির বিশেষ দূত এবং দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চাও তিনের সঙ্গে আলোচনার সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রাখাইন মুসলমানদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। মিয়ানমারের বিশেষ দূত প্রস্তাবটি তার দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করবেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ৯ অক্টোবরের পর থেকে মিয়ানমারের বিপুল নাগরিকের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে (৯ অক্টোবর থেকে) মিয়ানমার থেকে প্রায় ৬৫ হাজার নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের আসা অব্যাহত আছে। মিয়ানমার থেকে আসা এসব লোকজনের অব্যাহতভাবে আসা এবং প্রায় তিন লাখ অনিবন্ধিত মিয়ানমারের নাগরিকের দীর্ঘ অবস্থানের কারণে চট্টগ্রাম এলাকা, বিশেষ করে কক্সবাজারের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে বিশেষ দূতকে জানানো হয়।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন-প্রত্যাশীদের নাগরিক হওয়ার বিষয়টি যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।


রাখাইন রাজ্যের ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সশস্ত্র চরমপন্থা বিকাশের আশঙ্কা উল্লেখ করে মিয়ানমারের বিশেষ দূত এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সহযোগিতা চেয়েছেন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 


Top