বানর-হরিণের অন্তরঙ্গতা ধরা পড়ল ক্যামেরায় ( ভিডিও) | daily-sun.com

বানর-হরিণের অন্তরঙ্গতা ধরা পড়ল ক্যামেরায় ( ভিডিও)

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ জানুয়ারী, ২০১৭ ১৯:০৬ টাprinter

বানর-হরিণের অন্তরঙ্গতা  ধরা পড়ল ক্যামেরায় ( ভিডিও)

 

 

এই প্রথম বিজ্ঞানীদের ক্যামেরায় ধরা পড়ল সম্পূর্ণতই ভিন্ন দুটি প্রজাতির প্রাণীর যৌন মিলনের দৃশ্য। 
এই আন্তঃপ্রজাতি যৌন মিলনের ঘটনাটি ঘটে জাপানের ইয়াকোশিমা দ্বীপে, ম্যাকাকিউ নামের একটি পুরুষ বানর ও সিকা নামের নারী হরিণের মধ্যে।

 

আর পরস্পরের সম্মতিতে এবং সম্পূর্ণ মুক্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশে এই ভিন্ন প্রজাতির দুটি প্রাণির মধ্যে প্রাজাতির পুনরুৎপাদনমূলক এই তৎপরতা সংঘটিত হয়। 
এর আগে ভিন্ন প্রজাতির প্রাণিদের মধ্যে যৌন মিলনের ঘটনা ঘটেছে। তবে সে ঘটনাগুলো ঘটেছে মূলত কাছাকাছি প্র্র্রজাতির এবং দেখতে একই রকম প্রাণিদের মধ্যে। এছাড়া আগের ঘটনাগুলো ঘটেছে শুধু বন্দি অবস্থাতে জন্ম নেওয়া এবং একঘরে বাস করা ভিন্ন প্রজাতির প্রাণিদের মধ্যে। আর ওই ঘটনাগুলো ছিল হয়রানি বা ধর্ষণ মূলক যৌন মিলনের ঘটনা। 
 

কিন্তু প্রকৃতিতে মুক্তভাবে সম্পূর্ণতই ভিন্ন প্রজাতির দুটি প্রাণির মধ্যে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যৌন মিলনের ঘটনা বিজ্ঞানীদের চোখে পড়ল এই প্রথম। এই বানর আর হরিণ দুটো পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে বা কোনো মানুষের প্ররোচনায় বাধ্য হয়ে যৌন মিলন করেনি। বরং পুরোপুরি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং পরস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তারা এই যৌন মিলনে লিপ্ত হয়। 
 

জাপানের ম্যাকাকিউস প্রজাতির বানররা যে হরিণের পিঠে চড়ে বসে তা আগে থেকেই জানা ছিল। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, এবার বেশ কয়েকটি নারী হরিণের সঙ্গে এই প্রজাতির একটি বানরের স্পষ্ট যৌন তৎপরতা ধরা পড়েছে। ”
কোনো কোনো হরিণ অবশ্য বানরটির এই আচরণে পালিয়ে গেলেও একটি হরিণকে বানরের সঙ্গে যৌন মিলনে চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে সম্মতি দিতে দেখা গেছে। প্রাইমেট নামের জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছন বিজ্ঞানীরা। 
 

গবেষকরা লিখেছেন, একটি নারী সিকা হরিণ ম্যাকাকিউ প্রজাতির একটি পুরুষ বানরের সঙ্গে যৌন মিলনে সম্মতি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এমনকি পিঠে লেগে থাকা বানরটির বীর্যও হরিণটিকে জিহ্বা দিয়ে চাটতে দেখা গেছে। অন্য একটি হরিণ ওই বানরটির সঙ্গে যৌন মিলনে রাজি না হয়ে তাকে পিঠ থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়। 
 

বিজ্ঞানীদের ধারণা, ওই বানরটি তার নিজের প্রজাতির কোনো নারী বানরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে ব্যর্থ হয়েই সম্ভবত এমন আচরণ করছিল। “mate deprivation” বা “সঙ্গী বঞ্চনা” নামের একটি তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে তারা এই ধারণা করেন। ওই তত্ত্ব মতে যে প্রাণি নিজের প্রজাতিতে সঙ্গীনি জুটাতে পারেনা তারা এমন আচরণ করে। 
 

আর সাধারণত দুটি প্রজাতির প্রাণি যদি একসঙ্গে খেলাধুলা করে বা সহযোগিতা করে তখন এমন ঘটনা ঘটে। যেমন ম্যাকাকিউ প্রজাতির বানরা সিকা প্রাজাতির হরিণদের পিঠে চড়ে খেলতে অভ্যস্ত। আর তাছাড়া বানরটির প্রজনন মৌসুম চলছিল। 
 

অন্য আরেকটি তত্ত্ব মতে, সম্ভবত পরস্পরের কাছ থেকে যৌন শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য এমন আচরণ করে থাকে ভিন্ন প্রজাতির প্রাণিরা। তবে এই ধারণাটি ভুল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ এরা কোনো সামাজিক প্রাণি নয় একে অপরের কাছ থেকে শিখবে। 
 

সাধারণত দুটি ভিন্ন প্রজাতির মধ্যে যৌন মিলনের ঘটনা ঘটে নিজেদেরকে চিনতে ভুল করার জন্য বা আলাদা করতে না পারার জন্য। ফলে এই ধরনের ঘটনা মূলত প্রায় কাছাকাছি প্রজাতির এবং দেখতে একই রকম এমন দুটি প্রজাতির প্রাণির মধ্যেই ঘটে। 
কিন্তু এবারের এই ঘটনা একদমই আলাদা। এভাবে পুরোপুরি ভিন্ন দুটি প্রজাতির প্রাণির মধ্যে যৌন মিলনের ঘটনা এর আগে আর কখনো দেখা যায়নি। 
 

বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশা, কেন পুরোপুরি ভিন্ন দুটি প্রজাতির প্রাণি যৌন মিলনে লিপ্ত হয় তা হয়তো গবেষণা করে বের করা সম্ভব। আর তা করা গেলে তাহলে মানুষদের অনেকেও কেন অন্য প্রাণিদের প্রতি যৌনতার আগ্রহ দেখায় তার কারণও নির্ণয় করা হয়তো সম্ভবে হবে। 

সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

 

 


-->
Top