শিশুকে জোর করে খাওয়াবেন না; ক্ষুধা অনুভব করতে দিন | daily-sun.com

শিশুকে জোর করে খাওয়াবেন না; ক্ষুধা অনুভব করতে দিন

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ জানুয়ারী, ২০১৭ ০৩:২৫ printer

শিশুকে জোর করে খাওয়াবেন না; ক্ষুধা অনুভব করতে দিন

 

 

ক্ষুধা লাগলে খেতে হবে এটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। অবুঝ শিশুও এর বাইরে নয়।

শিশুকে ক্ষুধা পেতে দিন, বুঝতে দিন। ক্ষুধা বুঝে খাওয়াটা ওর বাকি জীবনে চলার জন্য জরুরি। শিশুরা জানে না কী খাবে, কী ভাবে খাবে। আপনাকেই শেখাতে হবে, খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করাতে হবে। তাই বলে জোরাজুরি একদম নয়। আপনার দায়িত্ব সুষম খাবার খাওয়ানো।

 

অনেক সময়ই শিশুদের খাবারে কার্বোহাইড্রেট আর ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হয়ে যায়। এক বছরের পর থেকে কিন্তু ধীরে ধীরে প্রোটিন দিতে হবে ওকে। দেড় বছর থেকে পরিমাণটা বাড়বে। দু’বেলাই অল্প করে—এক বেলা হয়তো মাছের পাতলা ঝোল, আর রাতে চিকেন ক্লিয়ার স্যুপ।ডিম সিদ্ধর বদলে ভাজা (স্ক্রাম্বলড)ছোটরা বেশি পছন্দ করে। তাতে অসুবিধা নেই। সব্জি ও ফল মিলে অন্তত পাঁচ রকম দৈনন্দিন খাবারে থাকলে ভাল। আসলে ভিটামিন আর মিনারেলস এই সময়টা খুব জরুরি। ম্যাগি বা ইনস্ট্যান্ট ফুডগুলো পারতপক্ষে না দেওয়াই ভাল। ওতে শুধু কার্বোহাইড্রেট আর ফ্যাট। বরং টোম্যাটোর স্যুপ দিন। প্রথম দিন খেতে না চাইলে ছ’দিন পরে আবার দিন। জোরাজুরি না করে আগ্রহ তৈরি করার চেষ্টা করুন। টোম্যাটোর স্যুপ বানানোর সময় ওকে  পাশে রেখে তৈরির প্রক্রিয়ায় সঙ্গে নিন। বানানো হয়ে গেলে আস্বাদ নিতে চাইবে ঠিক।   কিংবা সকালবেলা কলা খাবে যখন, তখন ছাল ছাড়িয়ে ওকে নিজেকে খেতে দিন।

 

প্রথম কয়েক দিন হয়তো ঠিক মতো পারবে না, তার পর কিন্তু ও নিজে খোসা ছাড়ানোর বিষয়টায় মজা পাবে। সন্তানের সঙ্গে বসে একসাথে খান—ওর ভাল লাগবে। পারিবারিক বন্ধন পোক্ত হবে। আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনারা যেমন  খাচ্ছেন, তেমনটা ওকেও খেতে দিন।   অনেক মা সিদ্ধ ঝোল ভাত ঘেঁটে-মাখিয়ে  বড়বেলা পর্যন্ত খাইয়ে যান। তাতে চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয় না বাচ্চার।   তাই বলে যখন তেলেভাজা খাচ্ছি, সেটাও খুদেটিকে দেব না। একটু মাখন বা ঘি ঠিক আছে— ডুবো তেলে ভাজা খাবার দিলে বাচ্চার পক্ষে হজম করা মুশকিল।   চিজ, মেয়োনিজ, পিনাট বাটার ইত্যাদিও বাইরে থেকে কিনে না দেওয়া ভাল। বাড়িতে বানালে আলাদা কথা। ছোটবেলা যতটা সম্ভব বাড়ির খাবারই খাওয়াই ভাল।

 


উপরে