সরকার লাশ দিলে গ্রামে দাফন করতে চায় মারজানের বাবা | daily-sun.com

সরকার লাশ দিলে গ্রামে দাফন করতে চায় মারজানের বাবা

ডেইলি সান অনলাইন     ৬ জানুয়ারী, ২০১৭ ১৭:১১ টাprinter

সরকার লাশ  দিলে  গ্রামে  দাফন করতে চায় মারজানের বাবা

 

 

গুলশান হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড জঙ্গিনেতা মারজানের বাবা হোসিয়ারি শ্রমিক নিজাম উদ্দিন বলেছেন, লাশ ঢাকা থেকে পাবনায় নেয়ার সামর্থ্য নেই আমার। তিনি বলেন, ও দোষ করে থাকলে উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে। এ নিয়ে আমার আফসোস নাই। কিন্তু সরকার লাশটা ফেরত দিলে নিজের গ্রামে ওকে দাফন করতে চাই।  
  
এদিকে বন্দুকযুদ্ধে মারজানের নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকে মারজানের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। মারজানের মা সালমা বেগম (৫০) ও দাদী পিয়ারুন্নেছা (৮০) মারজানের শোকে শয্যাশায়ী।  
  
টিভি নিউজে এবং পরে স্থানীয় পুলিশের মাধ্যমে মারজানের পরিবার জানতে পারে যে, মারজান পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। এ খবর পাওয়ার পর মা সালমা বেগম, দাদি পিয়ারুন্নেছা শোকে ভেঙে পড়েন। ছোটভাই-বোনরাও কান্নাকাটি করে।  
  
মারজানের বাবা নিজাম উদ্দিন বলেন, এত কষ্ট করে ছেলেকে লেখাপড়া করতে পাঠিয়েছি। সেই ছেলে এই অপকর্ম করতে পারে তা বিশ্বাস করতে পারছি না। ও অপরাধ করলে ওর উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে।  
  
তিনি বলেন, এখন গ্রামবাসীরাও চায় এবং আমিও চাই সরকার ওর লাশটা দিলে এখানে দাফন করতে পারি। তিনি আরও বলেন, ওকে এই পথে নিয়ে গেছে তাদেরও আমি বিচার চাই।এদিকে ঢাকার গুলশান হামলার পরপরই ছেলের অপকর্মের কথা শুনে মা সালমা বেগম অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এখনও তিনি শয্যাশায়ী।   
  
 

অত্যন্ত দরিদ্র মারজানের পরিবার। বাবা হোসিয়ারি শ্রমিক নিজাম উদ্দিন (৫৫) এবং মা গৃহিনী সালমা বেগম।মারজানের পুরো নাম নুরুল ইসলাম মারজান (২৫)। পাবনা শহর থেকে  ৫ কিলোমিটার দূরে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের আফুরিয়া পাটকে বাড়ি গ্রামের নাম। তাদের পরিবারে ৫ ছেলে ৫ মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে দ্বিতীয় মারজান।  
  
গ্রামের স্কুলে ৫ম শ্রেণি এবং পরে পাবনা দারুল হাদিসে কওমি পড়ালেখা শেষ করে পাবনা আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে আলিম পাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বিষয়ে ৩ বছর আগে ভর্তি হন মারজান। 
  
পরিবার সূত্র জানায়, দেড় বছর আগে মারজান বিয়ে করেন। বিয়ের পর কিছুদিন বাড়িতে স্ত্রীকে রেখে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন তিনি। তবে গুলশান হামলার ৭/৮ মাস আগে তিনি স্ত্রী প্রিয়তিকে নিয়ে চলে যান চট্টগ্রামে। এরপর থেকে পিতা-মাতা বা বাড়ির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেনি।  
  
গুলশান হামলার পর টিভিতে মারজানের ছবি দেখে প্রতিবেশীরা পিতা-মাতাকে জানায় মারজানের কথা। 
টিভিতে তাকে দেখে তারা চিনতে পারেন এই তাদের ছেলে মারজান। এরপর থেকে মা অসুস্থ হয়ে পড়েন।  
  

 

পিতা নিজাম উদ্দিন বলেন, আমি সামান্য হোসিয়ারি শ্রমিকের কাজ কাজ করে ওদের মানুষ করছি। মালিকদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে বাড়ির ওপর কাজ করে প্রতিদিন সাইকেলে করে আবার দিয়ে আসি। বিনিময়ে দিনে প্রায় ৪০০ টাকা করে পাই।  
  
 

নিজাম উদ্দিন জানান, তিনি রাজনীতি করেন না। ছেলেও এখানে কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল না। তিনি বলেন, ছেলের দায়ভার আমি নেব না। ছেলে এই অপকর্ম করতে পারে তা বিশ্বাস করতে পারছি না। ও অপরাধ করে থাকলে ওর শাস্তি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার লাশটি ফেরত দিলে এখানে দাফন করা হবে। এছাড়া ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে আসার সামর্থ্য আমার নেই। ছোট ভাই বোনরাও বলেন, ভাইকে অনেক দিন দেখি না। ওর লাশটা ফেরত চাই।  
  
 

 


Top