'অন্য ছেলের সঙ্গে আপত্তিকর চ্যাট করে আমার স্ত্রী' | daily-sun.com

'অন্য ছেলের সঙ্গে আপত্তিকর চ্যাট করে আমার স্ত্রী'

ডেইলি সান অনলাইন     ৪ জানুয়ারী, ২০১৭ ১৬:২১ টাprinter

'অন্য ছেলের সঙ্গে আপত্তিকর চ্যাট করে আমার স্ত্রী'

সম্পর্ক বিষয়ক নানা সমস্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ চেয়ে থাকে সাধারণ মানুষ। স্ত্রীকে নিয়ে এক সমস্যায় জড়িয়ে তেমনই পরামর্শ চেয়েছেন এক স্বামী।

তিনি চিঠিতে লিখেছেন, আমাদের তিন বছর হলো বিয়ে হয়েছে। আমরা দারুণ এক জীবন কাটাচ্ছিলাম। দাম্পত্য জীবনের কিছু উত্থান-পতন তো আছেই। কিন্তু সম্প্রতি সবকিছুই যেন বদলে যাচ্ছে। চাকরি করার কারণে আমাকে বদলি করা হয় অন্য জায়গায়। কাজেই সেখানে থাকতে শুরু করি আমি। একদিন হঠাৎ করেই আমি আমার স্ত্রীর ই-মেইলে প্রবেশ করি। সেখানে দেখতে পাই যে, সে অন্য একটা ছেলের সঙ্গে চ্যাট করে এবং আমার কাছে তা আপত্তিকর। তার সঙ্গে সারাদিন ধরেই চ্যাট করে সে।

প্রথমে তেমন কিছু মনে হয়নি। কিন্তু একদিন দেখলাম, মধ্যরাত পর্যন্ত চ্যাট চলছে এবং সাধারণ চ্যাট অন্য দিকে মোড় নিচ্ছে। একরাতে তারা নিজেদের মোবাইল নম্বর বিনিময় করার পর বিষয়টি অশনি সংকেত দিল আমাকে। আমি এখন কি করবো সেই পরামর্শ চাইছি। কারণ এ বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর আমি তাকে কখনোই আর বিশ্বাস করতে পারবো না। বিশ্বাস হারিয়ে তার সঙ্গে জীবন কাটানো নরক তুল্য হয়ে যাবে।

সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জানখানা জোশি দিয়েছেন পরামর্শ। তিনি বলছেন, বিয়ের পর স্ত্রীর সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক বিরাজ করেছেন বলেই জানিয়েছেন আপনি। কিন্তু দুজনের মধ্য অবস্থানগত দূরত্ব সম্পর্কের প্রতি হুমকি হয়ে উঠেছে বলেই মনে হচ্ছে। এই দূরত্বে আপনার স্ত্রী একাকী বোধ করছেন এবং তার কষ্টবোধ হচ্ছে। তার মনে হচ্ছে, সঙ্গীর কাছে থেকে তিনি অনেক দূরে সরে গিয়েছেন। অবস্থানগত দূরত্বের জন্য আপনার স্ত্রী এক বিশেষ আবেগগত অবস্থায় পড়ে গেছেন। এখন চিন্তা করে দেখুন, আপনার স্ত্রী কেন আপনার সঙ্গে নতুন স্থানে চলে আসতে চাননি? আপনাদের সম্পর্কের কোথায় স্ট্রেস রয়েছে বলে ধারণা করতে পারেন?

দুজন দুজনের থেকে অনেক দূরে থাকার কারণে আবেগগত অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর পরও মানুষ মনের দিক থেকে ভালোবাসা পেতে চায়। এ সময় যৌন সংশ্লিষ্ট বিষয়েও টেনশন তৈরি হয়। কারণ যৌনতা কেবল দৈহিক চাহিদা নয়, এটা মানসিক চাহিদাও বটে।

যদি আপনাদের সম্পর্ক খুবই মজবুত থাকে, তবে হয়তো স্ত্রীর অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যাট নিয়ে আপনি তার সঙ্গে আলাপ করতে পারেন। এতে করে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস আরো বেড়ে যেতে পারে এবং সমস্যা দ্রুত মিটেও যায়। তবে এর পেছনে সময় দিতে হবে এবং বিষয়টি খুব জলদি নাও মিটতে পারে। পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে আপনার ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও সাহস রাখতে হবে। তবেই আগের মতো ভারসাম্য ফিরে আসবে। ভবিষ্যতের কথা দুজনকেই চিন্তা করতে হবে। বর্তমানের সাধারণ বিষয়গুলো এড়িয়ে যদি দূর ভবিষ্যতের আলো দেখতে চান, তো এ সমস্যা আর থাকবে না। এর পর আপনার ক্রমেই নিজেদের আরো কাছে চলে আসবেন। সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস

 


Top