আপনার পুরুষটি কি “দুর্বার ক্রোধ” নিক্ষেপ করছে? | daily-sun.com

আপনার পুরুষটি কি “দুর্বার ক্রোধ” নিক্ষেপ করছে?

ডেইলি সান অনলাইন     ২৪ নভেম্বর, ২০১৬ ১৩:১৫ টাprinter

আপনার পুরুষটি কি “দুর্বার ক্রোধ” নিক্ষেপ করছে?

রাজহংসীর জন্য যা সত্য তা প্রায়ই রাজহাঁসের জন্যও সত্য হতে পারে। সুতরাং রাগান্বিত হওয়া এবং আবেগ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পুরষরা এ ব্যাপারে ব্যাপকভাবে দোষী।

নারীদেরকে যদি বলা হয় “নাটকের রানী” তাহলে পুরুষরা একইভাবে “দুর্বার ক্রোধ” নিক্ষেপকারী। একটি শহুরে ডিকশনারিতে বিষয়টিকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, “একজন প্রাপ্তবয়স্ত মানুষ নিজের পথটি না পেয়ে দুর্বার ক্রোধ নিক্ষেপ করে। বিষয়টি কি সচরাচরই ঘটে থাকে? হ্যাঁ, আপনার ধারণার চেয়েও বেশি…

কালপ্রিটগুলো
এই ধরনের চরমভাবাপন্ন প্রতিক্রিয়ার পেছনে যে কোনো কিছুই অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। একটি কঠিন কর্মদিবস, যে ইমেইলটি ডেলিভারি হচ্ছে না, কোনো অর্ডার যা আটকে আছে এমনকি একটি টিম যা আপনার প্রতি সাঁড়া দিচ্ছে না, এর সবগুলোই অফিসের মানসিক চাপসৃষ্টিকারী হতে পারে।
এর অনেক প্রতিক্রিয়া রয়েছে, সাবধান!
যা নারী এবং পুরুষরা উপলব্ধি করতে পারেন না- এর একটি মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে যারা চারপাশে থাকেন তাদের ওপর। একজন রাগান্বিত মানুষ ঠিকভাবে চিন্তা করতে পারেন না। তার হৃদকম্পন বেড়ে যায়। আর রাগান্বিত ব্যক্তিটি যে চাপ অনুভব করেন তা রক্তচাপও বাড়িয়ে দেয়। আর এর ফলে মাথা ব্যাথারও সৃষ্টি হয়।


গবেষণায় আরো প্রমাণিত হয়েছে, আপনি যদি প্রায় প্রায়ই বিস্ফোরিত হতে এবং প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে না পারেন তাহলে আপনি ৫০ বছর হওয়ার আগেই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন। এই রাগের ফলে ঘুমেও বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। সুতরাং আবেগের আগ্নেয়গিরির মতো না ফুটে বরং একটু পিছিয়ে যান এবং পূণরায় ভাবুন।
এটা এড়ানোর উপায়
১. জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করুন। এতে আপনার ক্রোধ কমে আসবে।
২. মেডিটেশন করুন, যা আপনার মনের পরিবর্তন সাধন করবে।
৩. যোগ ব্যায়াম করুন। শক্তিশালিভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ কৌশল আপনার মাঝে জমে থাকা মানসিক চাপ নিঃসরণ করবে।
৪. পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান, অন্তত ছয় থেকে আট ঘন্টা।
৫. সঠিক খাবার খান। অসময়ে খাদ্য গ্রহণের ফলে স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। চ্যামোমাইল এর মতো একটি স্বস্তিদায়ক চা পান করুন।
৬. প্রতিদিন বড় কোনো চিন্তা করে কিছুটা সময় ব্যয় করুন। এতে আপনার রাগ কমে আসবে।
তার যখন এমনটা হবে
- তাৎক্ষণিকভাবে কিছু করার চেষ্টা বা ব্যাখ্যা করতে যাবেন না
- তার সামনে থেকে কিছুক্ষণের জন্য সরে যান। কারণ আপনি সামনে থাকলে তার ক্ষোভ হয়তো আরো বেড়ে চলতে পারে।
- তাকে বলুন তিনি শান্ত হলে আপনি তার কথা শুনবেন।
- তাকে প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করুন।
- উপলব্ধি করুন যে, আপনি কারো আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। সুতরাং অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকবেন না বা দুঃখ বোধ করবেন না।
আপনি কি জানেন?
বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, প্রতিটি গড়পড়তা মানুষ প্রতিদিন অন্তত একবারের জন্য হলেও দুর্বার ক্রোধে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া


Top