৭ নভেম্বর ও ৫ আগস্টে আধিপত্যবাদী শক্তির পতন ঘটেছে: প্রিন্স
ডেইলি সান রিপোর্ট, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—দুই দিনেই আধিপত্যবাদী শক্তি ও তাদের দেশীয় সহযোগীদের পতন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি বলেছেন, নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পতিত আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। ৭ নভেম্বরের চেতনায় আধিপত্যবাদী শক্তির যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করা হবে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
হালুয়াঘাট ডিএস মাদ্রাসা মাঠে মিছিল-পূর্ব সমাবেশে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্যের ঐতিহাসিক প্রতীক। এদিন দেশপ্রেম জাগ্রত হয়েছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছিল।
তিনি বলেন, সংকটময় সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে আবির্ভূত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় ঐক্য ও সবার আগে বাংলাদেশ ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি।
প্রিন্স বলেন, বিএনপির জন্মের আগেই ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বিপ্লব হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান নিজ নিজ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। একটি অন্যটির প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; বরং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তারা পরস্পরের পরিপূরক।
তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের গৌরব কেউ ম্লান করতে বা ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস নেই। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না।
সমাবেশে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ বক্তব্য দেন।
সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ডিএস মাদ্রাসা মাঠ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হালুয়াঘাট উত্তর বাজারের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
