আন্দোলনের নামে দেশ অস্থিতিশীলের অপচেষ্টা চলছে: রিজভী
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর পুরান ঢাকায় আইনজীবী সমিতি ভবনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিট আয়োজিত ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশ সফর করে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানো, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা করছেন। ঠিক সেই সময়ে গার্মেন্টস খাতসহ বিভিন্ন জায়গায় হঠাৎ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি যানবাহনে আগুন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ‘পরাজিত স্বৈরাচারী শক্তির দোসর’ বলে দাবি করেন তিনি।
বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও আলটিমেটামের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বিএনপি ১৭ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন, নির্যাতন ও অসংখ্য নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বর্তমান অবস্থানে এসেছে। রাজপথ বা আন্দোলনের মাঠ কাউকে এককভাবে ব্যবহার করার অধিকার দেওয়া হয়নি। তাই একের পর এক উসকানি দেওয়া হলে বিএনপি চুপ করে বসে থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা স্বৈরাচারের কাছে নতজানু ছিলেন এবং নিজেদের স্বার্থে অবস্থান বদলেছেন, তাঁদের মুখে এখন বিপ্লবের কথা মানায় না। জনগণের কাছে সবার রাজনৈতিক ইতিহাস পরিষ্কার।
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপি এসব উদ্যোগের মূল ভাবনার বিরোধিতা করছে না। তবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে।
তিনি বলেন, সংবিধান একটি জাতির আত্মজীবনী। সময়ের প্রয়োজনে এতে সংশোধনী আনা হয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপি বা অন্য দলগুলোর ভিন্নমত থাকতে পারে। তবে এসব মতপার্থক্যের সমাধান লংমার্চ বা সড়ক অবরোধের মাধ্যমে সম্ভব নয়। আলোচনা ও জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এর সমাধান করতে হবে।
বক্তব্যের শুরুতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫ বছরের ঐতিহ্য স্মরণ করেন রিজভী। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে আদালত প্রাঙ্গণই ছিল বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের শেষ আশ্রয়স্থল।
নিজের টানা ৩৫ দিনের রিমান্ডের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও আইনি লড়াই না থাকলে তাঁদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ত।
বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড এবং তাঁর প্রতি তৎকালীন বিচার বিভাগের আচরণের সমালোচনাও করেন রিজভী।
তিনি বলেন, বিএনপি এ দেশের মাটিতেই থাকবে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে। কোনো বিদেশি শক্তির কাছে মাথা নত না করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিহার হোসেন ফারুক।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট বোরহানউদ্দিন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহসিন মিয়া, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতা ওমর ফারুক কাওসারসহ অনেকে।


