সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল, সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ১৩ হাজার ৪৯০ জন যাত্রী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
পোস্টে বলা হয়, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধ ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৩৬টি সরাসরি এবং ৫০টি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর বাংলাদেশ-সৌদি আরব রুটে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এ ঘটনায় ৬১টি ফ্লাইট সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে আরও বলা হয়, চলমান পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবগামী বাংলাদেশি যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তাদের অনেকেই কর্মস্থলে যোগদান, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে যাত্রা কিংবা পবিত্র ওমরাহ পালনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে চাকরি নিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মীদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পোস্টে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে তাদের চাকরির সুযোগ হারানো, নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তিগত জটিলতা এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ভিসার মেয়াদ ও নিয়োগসংক্রান্ত শর্ত নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ ও বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগের আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।
পোস্টে প্রবাসী কর্মীদের চাকরি, ভিসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাদের কর্মস্থলে যোগদানের সময়সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।
একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে সৌদি আরবের অন্য নিরাপদ বিমানবন্দর কিংবা বিকল্প রুট ব্যবহার করে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা যাচাইয়ের আহ্বান জানানো হয়। এ জন্য বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিকল্প ফ্লাইট, পুনরায় টিকিট বুকিং এবং যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ডা. শফিকুর রহমানের পোস্টে বলা হয়, এ সংকটে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হলে যাত্রী ও তাদের পরিবারের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে দ্রুত, কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।