‘বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগদান করার ক্ষোভে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে সরকার’
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
ছবি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সমাবেশ। সংগৃহীত
বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগদান করার ক্ষোভে সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশটি আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ওপর বিএনপি সরকারের রাগ কোথায় সেটা আমরা জানি। বিএনপি সরকারের রাগ হচ্ছে আখতারুজ্জামান কেন বিএনপি ছেড়ে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছে।
তিনি বলেন, একজন সিনিয়র সিটিজেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অদক্ষতা নিয়ে কথা বলতে পারেন। প্রয়োজনে অপদার্থ, ব্যর্থ, অদক্ষ কর্মকর্তাদের শাসাতেও পারেন। কিন্তু সরকার বিমানবন্দরের ওই ঘটনাকে ইস্যু করে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
এসময় তিনি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারপ্রধানসহ তাঁর মন্ত্রীদের কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে গুপ্ত ও স্বাধীনতাবিরোধী বলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যাদের সঙ্গে আপনার মা (বেগম খালেদা জিয়া) জোট করেছিল, যাদের সমর্থনে আপনার মা সরকার গঠন করেছিল তাদেরকে গুপ্ত আর স্বাধীনতা বিরোধী বলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের হাতে হাতকড়া পরিয়ে এদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে হাতকড়া পরিয়েছে, আখতারুজ্জামানকে রিমান্ডে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করেছে।
তিনি আরও বলেন, যারা চাঁদাবাজি করছে, দখলবাজি করছে তাদেরকে গ্রেপ্তার না করে অন্যায়, অনিয়ম ও অব্যবস্থপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য কামাল হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদের ৩৪ জন সদস্য বিমানবন্দরে এলেও বিমান কর্তৃপক্ষ তাঁদের কোনো প্রটোকল দেয়নি। বরং হয়রানি করেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কেবলমাত্র প্রবাসীদের হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। তিনি কোনো অপরাধ সংগঠিত করেননি। যার সাক্ষী আমি নিজে।
বিমানমন্ত্রীর বক্তব্য অসত্য এবং বাস্তবতার পরিপন্থী উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রীকে অসত্য বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, তারেক রহমানের সরকার নব্য ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছে। সরকারের দায়িত্ব ছিল মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু সরকার সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছে।
সাদিক কায়েম বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানির চিত্র প্রমাণ করে বিএনপি সরকার প্রবাসী বিরোধী সরকার। বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করায় বিএনপি সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে। অবিলম্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মুক্তি দিয়ে বিমানবন্দরের চলমান সমস্যা সমাধান করে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, ড. মোবারক হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতারা।
সমাবেশ শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে এক বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়-প্রেসক্লাব হয়ে মৎস্য ভবন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।