লংমার্চের মধ্যেই জামায়াতের ৩৪ এমপির বিদেশ সফর, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আট দফা দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। লংমার্চের কর্মসূচির মধ্যেই জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ সংসদ সদস্যের একটি দল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ সফর করছে। একই সঙ্গে সফরকারী দলে রয়েছেন দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, একজন লেখক ও এমপিদের পরিবারের সদস্যসহ মোট ৭১ জন।
জামায়াতের দলীয় সূত্র জানায়, সফরকারী দলের একটি অংশ গত ১৩ সেপ্টেম্বর এয়ার এশিয়ার ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটের ফ্লাইটে মালয়েশিয়ায় যায়। বাকি সদস্যরা পরদিন সেখানে পৌঁছান। এরপর সফরকারী দল মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে সফরটিকে শিক্ষামূলক ও ওমরা পালনের সফর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সফরের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পার্লামেন্ট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থাকবে।
সফরে থাকা জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ অবশ্য এটিকে আনুষ্ঠানিক সফর হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ভাষায়, এটি পারিবারিক ও গ্রুপ সফর।
সফরকারী দলে থাকা জামায়াতের ৩৪ এমপির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, ঢাকা-১৪ আসনের মীর আহমাদ বিন কাসেম, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আসনের মাসুদ সাঈদী, শেরপুর-১ আসনের মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, রংপুর-৬ আসনের মো. নুরুল আমিনসহ বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা।
এমপিদের বাইরে সফরকারী দলে রয়েছেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন এবং লেখক জিয়াউল হক।
মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর সফরকারী এমপিরা দেশটির সরকারি ও বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁরা সিঙ্গাপুরে পৌঁছে একটি সিম্পোজিয়ামে অংশ নেন এবং দেশটির রাজনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে বণিক বার্তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একসঙ্গে এতসংখ্যক সংসদ সদস্যের বিদেশ সফর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তাঁরা কোন উদ্দেশ্যে এবং কী ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, কোনো বড় রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা একসঙ্গে বিদেশ সফরে গেলে তাঁদের সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনগণকে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া প্রয়োজন।
তাঁর মতে, জনপরিসরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা দরকার। কারণ তাঁরা ব্যক্তিগত পরিচয়ের পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।
রাজনীতি বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহানও এমপিদের বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁরা যদি শিক্ষামূলক বা বিশেষ কোনো কারণে সফরে গিয়ে থাকেন, তাহলে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানানো উচিত।
তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনই সফরের উদ্দেশ্য।
এর মধ্যে গত ১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য আট দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করে। রংপুরে আয়োজিত সমাপনী সমাবেশে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
সূত্র: বণিক বার্তা