প্রশাসন দলীয়করণ করতে বিএনপি গণভোটের রায় মানছে না: মামুনুল
সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
প্রশাসনকে দলীয়করণ করতে বিএনপি গণভোটের রায় কার্যকর করছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
মামুনুল হক বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর করা হলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে প্রশাসনকে দলীয়করণ এবং দুর্নীতি ও দলীয় পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত করার সুযোগও থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর হলে বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও নিত্যপণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লুটপাটের সুযোগ কমবে।
মামুনুল হক বলেন, বিএনপি জুলাই সনদও আন্তরিকভাবে মেনে নেয়নি। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা জনগণের সঙ্গে মুনাফেকি ও গাদ্দারি করেছে।
তিনি বলেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, চাল ও সারের দামসহ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মতো সমস্যার সমাধানে গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে।
মামুনুল হক বলেন, এই দাবিতে ১১ দল ঢাকা থেকে রংপুরে লংমার্চ করেছে। প্রয়োজনে আট দফার পরিবর্তে এক দফার আন্দোলনের নির্দেশনা দেওয়া হলে ঢাকামুখী লংমার্চের জন্য প্রস্তুত থাকতে তিনি সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আহ্বান জানান।
এর আগে শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। আয়োজকদের দাবি, প্রায় ৩ হাজার গাড়ির বহর নিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পথে গাজীপুরের ভোগড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হয়।
পথসভাগুলোতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি ছিল বলে আয়োজকেরা জানান। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে লংমার্চ রংপুরে পৌঁছায়।
রংপুরের সমাবেশে ১১ দলের ঘোষিত দাবির সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও যুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। আয়োজকেরা এটিকে রংপুর অঞ্চলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা। জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং ছাত্রনেতারাও এতে উপস্থিত ছিলেন।