দাবি না মানলে ৮ দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে: শফিকুর রহমান
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবি মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দাবি মেনে না নিলে আট দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে। তখন কোনো ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে আমাদের দ্বিতীয় দফার লংমার্চ। ইতোমধ্যে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। মাথা গরম করবেন না, জনগণের গণদাবি মেনে নিন।’
তিনি বলেন, ‘যদি দাবি মেনে না নেওয়া হয় তাহলে আমাদের ৮ দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে। তখন কোনো ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না। আমরা কথা দিচ্ছি, জনগণের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।’
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের দায়িত্ব ছিল মানবাধিকার রক্ষা করা। কিন্তু তারা মানবাধিকার হরণ করছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে মানবাধিকার হরণ করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঠিক করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন। হাসিনার মতো হেলিকপ্টারে যাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে ক্ষমতা ছাড়বেন।’ লংমার্চের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে কর্মসূচি বন্ধ করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এলডিপির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, দেশে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে হাহাকার শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ সরকার বিএনপির সরকার নয়, হাসিনার সরকার।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে সরকার ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার যে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তা জনগণের কাছে তুলে ধরতেই তারা লংমার্চ করছেন।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার মাত্র সাত মাসের মধ্যে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সরকার জুলাই সনদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশ শেষে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা করার কথা রয়েছে। পরে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।