চার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত দেড় শতাধিক
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসাসহ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংঘটিত এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের পর সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাসগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা শান্ত চত্বর, শহীদ মিনার এলাকাসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাসহ ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। পরে আহত শিবিরকর্মীরা চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানে আবারও হামলার অভিযোগ ওঠে। ছাত্রশিবিরের দাবি, হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করা হয়।
অন্যদিকে ছাত্রদলের দাবি, জকসু ও ছাত্রশিবির পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ছাত্রশিবির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘মব কালচার’ সৃষ্টি করছে। তবে জকসুর জিএস ও শিবিরের শাখা সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি উপস্থাপন করতে গেলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারেও ভাঙচুর করা হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীভও ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ করেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন দাবি করেন, ছাত্রশিবির ও জকসু প্রতিনিধিরা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংঘর্ষের নিন্দা জানিয়ে তদন্তে পৃথক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হক, ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি শামীম মাহমুদ এবং আরও কয়েকজন নেতাকর্মী রয়েছেন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঢাকা কলেজেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবিরের আয়োজিত আলোচনা সভার ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। উভয় সংগঠনই হামলার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কায় মঙ্গলবার ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করে। এর আগে সোমবার রাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহিরাগতদের প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে। পুলিশও জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনাগুলো নিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং রাজধানীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।