তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের রায়কে স্বাগত গণসংহতির
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়কে স্বাগত জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন। দলটির মতে, এ রায় জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গণসংহতি আন্দোলন ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী পাসের সময় থেকেই এর অগণতান্ত্রিক চরিত্রের বিরোধিতা করে আসছে। সে সময় আমরা স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, জনগণের সম্মতি ছাড়া সংবিধানের মৌলিক কাঠামোয় পরিবর্তন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ, গণভোটের বিধান বাতিল এবং ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদের মতো বিধান সংযোজন গণতন্ত্র, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ও সংবিধানের মৌলিক চেতনাকে ক্ষুণ্ন করবে।
তারা বলেন, আজকের (বৃহস্পতিবার) রায় সেই অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক স্বীকৃতি। এই রায় জনগণের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সাংবিধানিক ভিত্তিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিবৃতিতে তারা বলেন, এই রায় একই সঙ্গে প্রমাণ করেছে যে রাষ্ট্রক্ষমতার সাময়িক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে সংবিধানকে দলীয় ও কর্তৃত্ববাদী স্বার্থে পরিবর্তন করা যায় না। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার কোনো সরকারের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য খর্ব করা সংবিধানের চেতনার পরিপন্থি।
বিবৃতিতে গণসংহতির দুই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, তবে এই রায়ের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকটের সম্পূর্ণ সমাধান হয়ে যায়নি। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রতিষ্ঠার লড়াই চলমান। রাষ্ট্রক্ষমতার কার্যকর ভারসাম্য, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, সব জাতিসত্তার সমঅধিকার, নাগরিকের মৌলিক স্বাধীনতা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে।
এই ধারাবাহিকতায় সংসদে আলোচনার মধ্য দিয়ে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য আহ্বান জানান তারা।