EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নতুন কমিটি ঘোষণা

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নতুন কমিটি ঘোষণা
অ অ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বরাবরের মতো এবারও দলটির আমির হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর)। আর নবগঠিত কমিটিতে নতুন মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এতদিন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মাওলানা গাজী আতাউর রহমানকে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরস্থ ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বিশেষ বৈঠকে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণা করেন দলের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম।

বিশেষ শূরা অধিবেশনে নির্বাচন-পরবর্তী কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। দলকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যেই নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই বিশেষ শূরা অধিবেশন আয়োজন করা হয়। বৈঠকে ২০২৫-২৬ সালের সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও কৌশল নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম বলেন, “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতানুগতিক কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়; বরং শরিয়াহর পূর্ণ অনুসরণ ও বাস্তবায়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। শরিয়াহ ও ইসলামকে প্রধান্য দিয়েই আমরা রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করি। বাহ্যিক চড়াই-উৎরাই আমরা মেনে নিই। সময় থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। সেজন্য দলকে আরও সুসংহত করতে হবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারণ জাতির প্রত্যাশা পূরণে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক ব্যর্থতা আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে।”

মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে বিগত সেশনের সামগ্রিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক এবং রাজনৈতিক প্রতিবেদন পেশ করেন সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর শূরা সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। এছাড়া চারজন যুগ্ম-মহাসচিব, চারজন সহকারী মহাসচিব এবং ৪৮ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।

যুগ্ম-মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, শাহ ইফতেখার তারিক ও মাওলানা নেছার উদ্দিন।

সহকারী মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান ও শেখ ফজলুল করিম মারুফ।

বিগত সেশনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদকে দলের সর্বোচ্চ পরিষদ প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়েছে। তিনি ২০০৮ সাল থেকে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দলের প্রতি তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শূরা অধিবেশনে তাকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

শূরার বৈঠকে মোট ৫৪ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হবে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটি

১. মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) — আমির

২. মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম — নায়েবে আমির

৩. মাওলানা আব্দুল আউয়াল — নায়েবে আমির

৪. মাওলানা আব্দুল হক আজাদ — নায়েবে আমির

৫. মাওলানা গাজী আতাউর রহমান — মহাসচিব

৬. প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম — যুগ্ম-মহাসচিব

৭. হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ — যুগ্ম-মহাসচিব

৮. শাহ ইফতেখার তারিক — যুগ্ম-মহাসচিব

৯. মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন — যুগ্ম-মহাসচিব

১০. মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের — সহকারী মহাসচিব

১১. মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম — সহকারী মহাসচিব

১২. কে এম আতিকুর রহমান — সহকারী মহাসচিব

১৩. হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করিম মারুফ — সহকারী মহাসচিব

১৪. মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালী উল্লাহ (এমপি)

১৫. মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী

১৬. আলহাজ হারুন অর রশীদ

১৭. হাফেজ মাওলানা নুরুল করিম আকরাম

১৮. শেখ আবু তাহের

১৯. মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী

২০. অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার

২১. মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন

২২. আলহাজ আব্দুর রহমান

২৩. প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ

২৪. মুফতি হেমায়েতুল্লাহ কাসেমী

২৫. প্রফেসর ড. বেলাল নূর আজীজি

২৬. মাওলানা মুহাম্মদ খলিলুর রহমান

২৭. বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল কাশেম

২৮. মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন সাকী

২৯. শেখ মুহাম্মদ নুরুন নাবী

৩০. হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (এলএলবি)

৩১. মাওলানা মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম

৩২. উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম

৩৩. কে এম শরীয়তুল্লাহ

৩৪. অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বরকতুল্লাহ লতিফ

৩৫. অধ্যাপক নাছির উদ্দিন খান

৩৬. মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী

৩৭. আলহাজ মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম

৩৮. মুফতি রেজাউল করিম আববার

৩৯. মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী

৪০. আলহাজ মুহাম্মদ আল ইকবাল

৪১. আলহাজ মুহাম্মদ সেলিম মাহমুদ

৪২. প্রভাষক মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার

৪৩. কে এম বেলাল হোসাইন

৪৪. মাওলানা শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম

৪৫. মুহাম্মদ আব্দুজ জলিল

৪৬. মুহাম্মদ আল-আমীন (ঠাকুরগাঁও)

৪৭. ইঞ্জিনিয়ার শেখ মারুফ

৪৮. এম এম কামাল হোসাইন (ভোলা)

আরও পড়ুন