ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসিরের ফেসবুক পোস্ট
‘শিবির নেতা জিসানকে নিয়ে জামায়াতের গুম বয়ান মিথ্যা’
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
শিবির নেতা জিসানকে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘গুম’ বয়ান পুলিশি তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, জুলাই-আগস্ট–পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে জামায়াতের আমির, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী এবং শিবির-নিয়ন্ত্রিত বট ও ফেক আইডিগুলো।
শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির এ দাবি করেন।
পোস্টে নাসির উদ্দিন নাসির লেখেন, জুলাই-আগস্ট–পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে জামায়াতের আমির, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী এবং শিবির-নিয়ন্ত্রিত বট ও ফেক আইডিগুলো। পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জিসানের ঘটনাকে শুরু থেকেই অপহরণ ও ‘গুম’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির। দলটির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য ও অনলাইন প্রচারণার কারণে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, ঘটনাটির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে নাসির বলেন, ‘গুম’ কোনো সাধারণ অভিযোগ নয়। এটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, যার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততার প্রশ্ন জড়িত থাকে।
তিনি দাবি করেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি অপহরণ বা গুম নয় বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বরং ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এসেছে। তদন্তে প্রকাশিত তথ্য সত্য হলে, এত বড় অভিযোগ তোলার আগে ন্যূনতম যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই সংগঠিতভাবে ‘গুম’–সংক্রান্ত বয়ান ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ছাত্রদলের এই নেতা। তার ভাষ্য, একটি অপ্রমাণিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবেগ উসকে দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। কিন্তু পরে ভিন্ন তথ্য সামনে এলেও সেই প্রচারণার দায় কেউ নিচ্ছে না।
নাসির উদ্দিন আরও বলেন, বারবার দেখা যাচ্ছে তথ্যের চেয়ে বয়ানকে এবং সত্যের চেয়ে মিথ্যা প্রচারণাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বক্তব্য যদি যাচাইকৃত তথ্যের বদলে গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের ওপর দাঁড়ায়, তাহলে তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির ক্ষতি করে। একই সঙ্গে প্রকৃত গুম, অপহরণ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর গুরুত্বও কমিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে জনগণ সত্যভিত্তিক অবস্থান প্রত্যাশা করে, প্রোপাগান্ডা নয়। জিসান ইস্যুতে অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে যতটা তৎপরতা দেখা গেছে, তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তার সামান্য অংশও দেখা যায়নি।
এই প্রবণতা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জনআস্থার জন্য শুভ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।