EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

জনগণের করের টাকার অপচয়ের অধিকার কারও নেই: পীর চরমোনাই

ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ পিএম

জনগণের করের টাকার অপচয়ের অধিকার কারও নেই: পীর চরমোনাই
অ অ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই) বলেছেন, বাজেট বাস্তবায়নের নামে ছলচাতুরি, টালবাহানা, অপচয় কিংবা অযৌক্তিক ব্যয়ের অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত বাজেটের প্রতিটি অর্থ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (৮ জুন) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের আগামী অর্থবছরের বাজেট: আমাদের ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পীর চরমোনাই বলেন, দেশে প্রায় এক কোটি নিবন্ধিত করদাতা থাকলেও বাস্তবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মাধ্যমে দেশের প্রায় সব মানুষই রাজস্ব ব্যবস্থায় অবদান রাখে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও জনগণ কর প্রদান করে। তাই জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবছর বাজেট পেশ ও অনুমোদিত হলেও এর বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত নজরদারি, আমানতদারি ও জবাবদিহিতার ঘাটতি থেকে যায়। ফলে বাজেটের একটি বড় অংশ অপচয় হয় এবং ক্রয়সংক্রান্ত দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ পাচারের ঘটনাও ঘটে। এ প্রবণতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বাজেটকে শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, জনগণের করের টাকায় বাজেট গঠিত হয় এবং ঋণের দায়ও শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর বর্তায়। কিন্তু বাজেটের সুবিধা সাধারণ মানুষ কতটা পাচ্ছে, তা অনেক সময় বিবেচনায় নেওয়া হয় না। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার কারণে ঘোষিত সুবিধাও অনেক ক্ষেত্রে জনগণের কাছে পৌঁছায় না।

তিনি আরও বলেন, বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, নীতিগত পরিবর্তনও প্রয়োজন। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় শরিয়াভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন। তিনি কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানান।

ড. খালিদ হোসেন বলেন, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ, চর্চার সম্পাদক ও সাংবাদিক সোহরাব হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সমন্বয়ক প্রকৌশলী এম এ এম গোলাম কিবরিয়া, ইসলামিক চেম্বার অব কমার্সের সদস্য সচিব মাওলানা মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসের, নিজাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ নিজাম উদ্দিন এবং জয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান শামীম।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন