বাজেট যেন দুর্নীতি ও লুটপাটের হাতিয়ার না হয়: গোলাম পরওয়ার
ডেইলি সান রিপোর্ট, ঢাকা
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও দেশের অর্থনীতি ও বাজেট প্রণয়নে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ ভূমিকা থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, আসন্ন জাতীয় বাজেট যেন দুর্নীতি ও লুটপাটের হাতিয়ার না হয়, সে জন্য সরকারকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে হবে।
আজ রবিবার (২৪ মে) সকালে রাজধানীর পল্টনে ইকোনোমিকস রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকার। বর্তমানে বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। কিন্তু বাজেটের আকার বাড়লেও সাধারণ মানুষের জীবনমানের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে বাজেটকে লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক রাজনৈতিক দল হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। “বিরোধী দল শুধু সংসদে বক্তব্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করবে—এমন নয়। দেশের উন্নয়নে সরকার ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্ব রয়েছে,” বলেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ বাজেটই ঋণনির্ভর ছিল, ফলে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত গতি অর্জিত হয়নি।
তিনি বলেন, “জনগণের ট্যাক্সের প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বাজেটে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে।” একই সঙ্গে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, প্রচলিত বাজেট প্রণয়ন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবমুখী ও সর্বজনীন বাজেট তৈরি করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন।
তিনি আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়া উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে বাজেটের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতিও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকা, সাবিকুন্নাহার মুন্নি, সাবেক সিনিয়র সচিব খ. ম. কবিরুল ইসলাম, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, ডেইলি স্টারের রাকায়েত উল্লাহ মৃধা, সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম খান, সাংবাদিক লুৎফর কবির সাদী ও এসএ টিভির নিউজ এডিটর সালাহউদ্দিন বাবলু।