EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর)

বিএনপির দুর্গে ভাগ বসাতে চায় হাতপাখা-দাঁড়িপাল্লা

জয়ের চাবিকাঠি নারী ও তরুণ ভোটারদের হাতে

ডেইলি সান রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

বিএনপির দুর্গে ভাগ বসাতে চায় হাতপাখা-দাঁড়িপাল্লা

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে একাধিকবার এ আসনে বিএনপির আধিপত্য বজায় থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে গেছে। একদিকে বিএনপি তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে মরিয়া, অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি ও জামায়াতে ইসলামী পরিবর্তনের ডাক দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপির ঘাঁটিতে ভাগ বসাতে মরিয়া ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা ও জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা। 

উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ‘হেভিওয়েটদের আসন’ হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর)। এ আসন থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন করেছেন স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা উত্তোলক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাম্যবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা ভাষাসৈনিক কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহা, মুসলিম লীগের সাবেক সভাপতি জমির আলী ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের নির্বাহী প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) আবদুল মান্নান ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের মতো নেতারা।

১টি পৌরসভা, ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রামগতি ও ৯ টি ইউনিয়ন নিয়ে কমলনগর উপজেলা। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৮ হাজার।

বিশ্লেষকদের মতে, নারী ও আওয়ামী ভোটারদের বিশাল অংশ, এবং কয়েক হাজার নতুন ভোটার এবারের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে। নির্বাচনের মাঠে প্রধান লড়াই হবে চতুর্মুখী। তবে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ থাকলেও নীরব প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা)।

এ আসনে দলটির প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ একজন জনপ্রিয় আলেম, চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে তার। এর আগে তিনি উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের টানা দুইবারের ইউপি চেয়ারম্যান থেকে কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে চমক সৃষ্টি করেন। একজন জনপ্রিয় আলেম, চেয়ারম্যান ও ধর্মীয় নেতা হিসেবে তার বেশ শক্ত অবস্থান রয়েছে। পাশাপাশি, বিএনপির প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজানও এ অঞ্চলের একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। ধানের শীষ ও ব্যক্তি নিজানের জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন তিনি।

আসনটিতে চারবার বিএনপি, তিনবার জাসদ (আ স ম রব), দুইবার আওয়ামী লীগ ও একবার করে সাম্যবাদী দল, বিকল্পধারা মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন– বিএনপির সহ-শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জাসদের (রব) জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি তানিয়া রব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপদেষ্টা মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্যাহ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের জেলা সাধারণ সম্পাদক মিলন কৃষ্ণ মণ্ডল, গণঅধিকার পরিষদের রেদওয়ান উল্লাহ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল, নুরুল হুদা চৌধুরী ও আ ন ম মঞ্জুর মোর্শেদ।

গত সপ্তাহে গণঅধিকার পরিষদের রেদওয়ান উল্লাহ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল, বিএনপির প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজানকে সমর্থন দিয়ে ধানের শীষের বিজয়ের জন্য মাঠে কাজ করছেন এই দুই প্রার্থী।

পরপর দুইবারের সাবেক এমপি বিএনপির প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, রামগতি-কমলনগরের মানুষ আমাকে চেনে। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির কোনো বিকল্প নেই। তাই জনগণ এবারো ধানের শীষে ভোট দেবেন।

তবে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ ও পথসভার মাধ্যমে ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক, নিরাপদ সমাজ প্রত্যাশী ও নারীরা ‘হাতপাখা’ প্রতীকের দিকেই ঝুঁকছেন। অতীতের মতো এবারো হাতপাখায় নীরব বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ আর হাফিজ উল্লাহ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন। বসে নেই জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির তানিয়া রবও।

কথা হলে কয়েকজন সাধারণ ভোটার জানান, তাদের  একটাই চাওয়া, যে কোনো সমস্যার কার্যকর সমাধান। যিনি বিপদে পাশে থাকবেন এবং নারীদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করবেন, তাকেই বেছে নেবে ভোটাররা। ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, এলাকার উন্নয়ন, জনগণের মনের ভাষা বুঝে যে প্রার্থী কাজ করবেন তাকেই তারা ভোট দেবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ ভোটাররা মনে করেন, জয় পরাজয় নির্ধারণ করবে এ আসনের নারী ও তরুণ ভোটাররা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের সমর্থনও বড়ো ফ্যাক্টর হতে পারে জয় পরাজয়ে। সবমিলিয়ে নির্বাচনে শেষ সময়ে এসে প্রার্থীদের দম ফেলার সময় নেই। ভোটাররাও প্রার্থী বাছাইয়ে গভীর চিন্তায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন