EN ☀️
×

Follow Us

রাজনীতি

দখলদারির সময় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি: চরমোনাই পীর

দক্ষিণাঞ্চলে হাতপাখার বিজয়ধ্বনি বঙ্গোপসাগরের তীর থেকেই শুরু হবে

ডেইলি সান রিপোর্ট, বরগুনা

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১০ পিএম

দখলদারির সময় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি: চরমোনাই পীর
অ অ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, ৫ আগস্টের পর যখন অনেকে দখলদারিতে মত্ত ছিল, তখন আমরা সারাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরগুনার আমতলী পৌর মুক্ত মঞ্চে বরগুনা-১ আসনে হাতপাখা প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, অনেকে আপনাদের সোনার বাংলা, সবুজ বাংলা কিংবা ডিজিটাল বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছে। আমরা সে ধরনের স্লোগান দিতে না পারলেও ইনশাআল্লাহ দেশের ১৮ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারবো। আপনারা হাতপাখায় আস্থা রাখুন।

তিনি আরও বলেন, বরগুনা জেলায় দুটি আসন রয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা-১ আসনে বিজয়ের ব্যাপারে আমরা দৃঢ় আশাবাদী; বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, এমনকি অন্য প্রার্থীদের লোকজনও গোপনে এসে আমাকে বলেছেন—এখানে হাতপাখার বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।

মরহুম পীর সাহেব চরমোনাইর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, তিনি বলতেন, দক্ষিণাঞ্চলে হাতপাখার বিজয়ধ্বনি বঙ্গোপসাগরের তীর থেকেই শুরু হবে।

হাতপাখার কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যেভাবে সময় ও শ্রম দিয়ে মাঠে কাজ করছেন, আল্লাহ আপনাদের বিজয় দান করবেন ইনশাআল্লাহ।

একইসঙ্গে অন্যান্য প্রার্থীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কেউ ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করবেন না, সন্ত্রাসী পথে হাঁটবেন না। আমাদের কর্মীরা সভ্য ও শান্ত—এটা দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবেন।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ইসলামী আন্দোলনের আমীর বলেন, চরমোনাইয়ে সংখ্যালঘুরা মায়ের কোলে সন্তানের মতো নিরাপদে আছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর যখন অনেকে বাজারঘাট ও বিভিন্ন জায়গা দখলে ব্যস্ত ছিল, তখন আমরা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় পাহারা দিয়েছি। হাতপাখা বিজয়ী হলে আপনারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও অধিকার ভোগ করবেন।

সভাপতির বক্তব্যে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালীউল্লাহ বলেন, আমি শাসক হতে চাই না, আপনাদের খাদেম হতে চাই। পীর সাহেব চরমোনাই আমাকে আপনাদের সেবা করার জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আপনারা সহযোগিতা করলে প্রতিহিংসার রাজনীতির বদলে সুস্থ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করবো। মামলাবাজির অবসান, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে চাই। শিক্ষাবান্ধব ও কর্মসংস্থানবান্ধব উন্নত বরগুনা গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, বরগুনা সদর হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা, সদরসহ তালতলী ও আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং বন্যা ও নদীভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।

জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, বরগুনা-২ আসনের এমপি প্রার্থী ও জেলা সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান কাসেমী, কেন্দ্রীয় নির্বাচন মনিটরিং টিমের সদস্য মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন