EN ☀️
×

Follow Us

ফিচার

তাসের জন্ম কোথায়, কীভাবে ছড়াল সারা বিশ্বে?

ডেইলি সান রিপোর্ট, ফিচার

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৫ এএম

তাসের জন্ম কোথায়, কীভাবে ছড়াল সারা বিশ্বে?

ছবি: সংগৃহীত

অ অ

বাড়ির কোনো ড্রয়ারে পড়ে থাকা পুরোনো তাসের প্যাকেট কিংবা জাদুকরের হাতে দ্রুত বদলে যাওয়া কার্ড—তাস আমাদের পরিচিত একটি খেলার উপকরণ। কিন্তু আজকের পরিচিত তাসের পেছনে রয়েছে শত শত বছরের বিস্ময়কর ইতিহাস। চীন থেকে শুরু হয়ে ইসলামি বিশ্ব পেরিয়ে ইউরোপে পৌঁছে তাস ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

চীনে তাসের প্রথম সূত্র

ইতিহাসে তাসের সবচেয়ে পুরোনো লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায় চীনা সাহিত্যে, দশম শতকে। তবে তখনকার তাস দেখতে কেমন ছিল বা কী ধরনের খেলা হতো, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না।

ইতিহাসবিদ থমাস ফ্রান্সিস কার্টারের মতে, চীনে মুদ্রণ প্রযুক্তির বিকাশ ও পাতাযুক্ত বইয়ের প্রচলনের সময়ের কাছাকাছি তাসের উদ্ভব হতে পারে। তাং রাজবংশের শেষ দিকে ‘শিট-ডাইস’ নামে কিছু কার্ডের প্রচলন ছিল বলে ধারণা করা হয়।

সং রাজবংশের সময়ে এসব কার্ডের পরিবর্তন ঘটে। কিছু কার্ড কাগজের বদলে হাড় বা হাতির দাঁত দিয়ে তৈরি করা হতো। পরে এগুলো থেকে মাহজংয়ের মতো খেলার বিকাশ ঘটে বলে ধারণা করা হয়।

অন্যদিকে কাগজের কার্ডে যুক্ত হতে থাকে বিভিন্ন নকশা ও প্রতীক। এসব কার্ডকেই আধুনিক তাসের পূর্বসূরি হিসেবে ধরা হয়।

সিল্ক রোড ধরে পশ্চিমে

বাণিজ্যপথ বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চীনের তাসও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়ে। সিল্ক রোডের মাধ্যমে তাস পৌঁছে যায় ইসলামি বিশ্বে।

চতুর্দশ শতকের মধ্যে মিসর ও মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসনকারী মামলুক সালতানাতেও তাসের প্রচলন শুরু হয়। সেখানে তাসের নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তন আসে।

১৯৩১ সালে ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদ জাদুঘরে পঞ্চদশ শতকের একটি মামলুক তাসের সেট পাওয়া যায়। সেই সেট থেকে সে সময়ের তাস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

মামলুক তাসে চারটি স্যুট ছিল। প্রতিটি স্যুটে ১৩টি করে কার্ড থাকার কথা। বর্তমানে ৪৭টি কার্ড পাওয়া গেছে। পুরো সেট থাকলে কার্ডের সংখ্যা ৫২টি হতো, যা আজকের প্রচলিত তাসের প্যাকেটের মতোই।

তবে সেগুলোর প্রতীক আজকের স্পেড, হার্ট, ডায়মন্ড ও ক্লাবের মতো ছিল না। মামলুক তাসে ছিল কাপ, মুদ্রা, তলোয়ার ও পোলো-স্টিক। প্রতিটি স্যুটে ১০টি সংখ্যাযুক্ত কার্ড এবং তিনটি দরবারি কার্ড ছিল।

ইউরোপে এসে বদলে গেল তাস

চতুর্দশ শতকের শেষ দিকে তাস ইউরোপে পৌঁছে যায়। কেউ কেউ মনে করেন, ক্রুসেড থেকে ফেরা যোদ্ধারা তাস ইউরোপে নিয়ে এসেছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই। ইসলামি বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যের মাধ্যমেই তাস ইউরোপে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেশি।

১৩৭০ থেকে ১৪০০ সালের মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন নথিতে তাস খেলার উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে তখনও তাসের নকশা বা স্যুটের কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড ছিল না।

পঞ্চদশ শতকে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাসের ধরনও ছিল ভিন্ন। জার্মানরা ব্যবহার করত হৃদয়, অ্যাকর্ন, ঘণ্টা ও পাতার প্রতীক। ইতালীয় তাসে ছিল কাপ, তলোয়ার, লাঠি ও মুদ্রা। কোথাও আবার চারটির পরিবর্তে পাঁচটি স্যুটও দেখা যেত।

আধুনিক চার স্যুটের জন্ম

আধুনিক তাসের নকশায় বড় পরিবর্তন আসে ফ্রান্সে। পঞ্চদশ শতকের শেষ দিকে ফরাসি কার্ড নির্মাতারা জার্মান স্যুটের আদলে চারটি নতুন প্রতীক তৈরি করেন। এগুলো হলো পিক, কোয়ের, কারো ও ত্রেফল। পরে ইংরেজিতে এগুলো স্পেড, হার্ট, ডায়মন্ড ও ক্লাব নামে পরিচিত হয়।

ফরাসি কার্ড নির্মাতারা তাস তৈরির প্রক্রিয়াও সহজ করেন। স্টেনসিল ও উন্নত মুদ্রণপদ্ধতি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ কমে যায়। এতে তাস আরও সস্তা ও সহজলভ্য হয়ে ওঠে।

এরপর ফরাসি, স্প্যানিশ ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এই তাসের নকশা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

খেলার তাসে কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস

আজকের ৫২ কার্ডের একটি সাধারণ প্যাকেট শুধু খেলার উপকরণ নয়। এর প্রতিটি প্রতীক ও নকশার পেছনে রয়েছে কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস।

চীন থেকে ইসলামি বিশ্ব, সেখান থেকে ইউরোপ—এভাবেই ধীরে ধীরে তাস ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। সময়ের সঙ্গে এর নকশা ও প্রতীক বদলালেও তাসের দীর্ঘ ইতিহাস আজও টিকে আছে আমাদের হাতে থাকা ছোট্ট একটি প্যাকেটের মধ্যে।

তথ্যসূত্র: ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্টস

আরও পড়ুন